২৫ লাখ টাকার ব্যয়ে দুর্গামন্দির নির্মাণ, মহাষষ্ঠীতে দর্শনার্থীদের ঢল
নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, বর্ণিল সাজসজ্জা আর ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সেবাসমিতি এলাকার একটি দুর্গামন্দির।
প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মন্দিরটি দেখতে মহাষষ্ঠীর দিন থেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। মন্দিরজুড়ে উৎসবের আমেজ, আর দর্শনার্থীদের চোখেমুখে মুগ্ধতার ছাপ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী উপলক্ষে সেবাসমিতি এলাকার স্কুল মাঠে নির্মিত মন্দিরটিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্রায় তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় নির্মিত মন্দিরটির প্রতিমা, সাজসজ্জা ও নান্দনিক অবয়ব ইতোমধ্যে স্থানীয়দের গণ্ডি পেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মন্দির নির্মাণ, দুর্গাপ্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরি এবং সাজসজ্জা মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
মন্দির দেখতে আসা রাজারহাটের অপূর্ব রায় নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে বলেন, “বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার জীবনে কুড়িগ্রাম কিংবা লালমনিরহাটে এত বড় ও দৃষ্টিনন্দন দুর্গাপূজার মণ্ডপ দেখিনি। নিজের চোখে দেখে খুব ভালো লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অতশী রায় বলেন, “দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও সবাই মিলে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের অপেক্ষায় রয়েছি।”
ইতি রানী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিনই মন্দিরটি দেখতে আসি। তবুও দেখার যেন মন ভরে না। দিনে পাঁচ থেকে ছয়বারও ঘুরে যাই। তবে রাতে মন্দিরটি দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
মানিক চন্দ্র রায় বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরবঙ্গের এই দৃষ্টিনন্দন পূজামণ্ডপের ছবি ও ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বাস্তবে দেখেও খুব ভালো লাগছে। যিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
স্থানীয় শিক্ষক মৃণাল চন্দ্র রায় জানান, তাঁদের এলাকার স্কুল মাঠে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির নির্মাণ হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। প্রায় তিন মাস ধরে নির্মাণকাজ চলেছে। এরই মধ্যে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মন্দিরটি দেখতে এসেছেন। শুরুতে এ উদ্যোগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় রতন চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা রতন রায় বলেন, “আমি ছোট পরিসরে ডেকোরেটরের ব্যবসা করি। অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল, আমাদের এলাকায় এমন একটি দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির নির্মাণ করব। ভারতের বিভিন্ন স্থান এবং বাংলাদেশের দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলার আকর্ষণীয় মন্দির দেখে এই স্বপ্ন তৈরি হয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই কাজ শুরু করি।”
তিনি আরও বলেন, ৩২ সদস্যের মন্দির কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসাহ ও সহযোগিতা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। প্রথমে ২২ লাখ টাকা বাজেট ধরে কাজ শুরু করলেও পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকায়। দুর্গার মূল প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরিতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা।
দর্শনার্থীদের প্রণামি প্রসঙ্গে রতন রায় বলেন, “স্থানীয় কিংবা দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য প্রণামির কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। যার যতটুকু ইচ্ছা, তিনি ততটুকু দেবেন। ইচ্ছা না হলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”
মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সেবাসমিতি এলাকার এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জার কারণে আগামী দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
২৫ লাখ টাকার ব্যয়ে দুর্গামন্দির নির্মাণ, মহাষষ্ঠীতে দর্শনার্থীদের ঢল
নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, বর্ণিল সাজসজ্জা আর ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সেবাসমিতি এলাকার একটি দুর্গামন্দির।
প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মন্দিরটি দেখতে মহাষষ্ঠীর দিন থেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। মন্দিরজুড়ে উৎসবের আমেজ, আর দর্শনার্থীদের চোখেমুখে মুগ্ধতার ছাপ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী উপলক্ষে সেবাসমিতি এলাকার স্কুল মাঠে নির্মিত মন্দিরটিতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। প্রায় তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় নির্মিত মন্দিরটির প্রতিমা, সাজসজ্জা ও নান্দনিক অবয়ব ইতোমধ্যে স্থানীয়দের গণ্ডি পেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের দৃষ্টি কেড়েছে।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মন্দির নির্মাণ, দুর্গাপ্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরি এবং সাজসজ্জা মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
মন্দির দেখতে আসা রাজারহাটের অপূর্ব রায় নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে বলেন, “বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার জীবনে কুড়িগ্রাম কিংবা লালমনিরহাটে এত বড় ও দৃষ্টিনন্দন দুর্গাপূজার মণ্ডপ দেখিনি। নিজের চোখে দেখে খুব ভালো লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অতশী রায় বলেন, “দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও সবাই মিলে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের অপেক্ষায় রয়েছি।”
ইতি রানী নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিনই মন্দিরটি দেখতে আসি। তবুও দেখার যেন মন ভরে না। দিনে পাঁচ থেকে ছয়বারও ঘুরে যাই। তবে রাতে মন্দিরটি দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
মানিক চন্দ্র রায় বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরবঙ্গের এই দৃষ্টিনন্দন পূজামণ্ডপের ছবি ও ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। বাস্তবে দেখেও খুব ভালো লাগছে। যিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
স্থানীয় শিক্ষক মৃণাল চন্দ্র রায় জানান, তাঁদের এলাকার স্কুল মাঠে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির নির্মাণ হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। প্রায় তিন মাস ধরে নির্মাণকাজ চলেছে। এরই মধ্যে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ মন্দিরটি দেখতে এসেছেন। শুরুতে এ উদ্যোগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় রতন চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা রতন রায় বলেন, “আমি ছোট পরিসরে ডেকোরেটরের ব্যবসা করি। অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল, আমাদের এলাকায় এমন একটি দৃষ্টিনন্দন দুর্গামন্দির নির্মাণ করব। ভারতের বিভিন্ন স্থান এবং বাংলাদেশের দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলার আকর্ষণীয় মন্দির দেখে এই স্বপ্ন তৈরি হয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই কাজ শুরু করি।”
তিনি আরও বলেন, ৩২ সদস্যের মন্দির কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উৎসাহ ও সহযোগিতা তাঁকে সাহস জুগিয়েছে। প্রথমে ২২ লাখ টাকা বাজেট ধরে কাজ শুরু করলেও পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ টাকায়। দুর্গার মূল প্রতিমাসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরিতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা।
দর্শনার্থীদের প্রণামি প্রসঙ্গে রতন রায় বলেন, “স্থানীয় কিংবা দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের জন্য প্রণামির কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি। যার যতটুকু ইচ্ছা, তিনি ততটুকু দেবেন। ইচ্ছা না হলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।”
মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সেবাসমিতি এলাকার এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জার কারণে আগামী দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

আপনার মতামত লিখুন