শরতের শেষপ্রান্তে প্রকৃতিজুড়ে ঋতু পরিবর্তনের আভাস। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে মাঠ-ঘাট, গ্রামীণ সড়ক ও জনপদ। ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু, বইছে হিমেল বাতাস। ভোরের এই বদলে যাওয়া প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে ভোরে এমন আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের মাঠ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে গিয়ে দেখা মেলে রোদের। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও বিকেল থেকে আবার বাড়তে থাকে ঠান্ডার আমেজ। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের অনুভূতিও বাড়ে।
ভোরের কুয়াশায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি যেন ধারণ করেছে নতুন রূপ। মাঠের পর মাঠে কুয়াশার আস্তরণ, গাছের পাতায় শিশির আর দূরের পথজুড়ে ধোঁয়াশা—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে বইছে ঋতু বদলের হাওয়া। তবে জীবিকার তাগিদে ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই মাঠে নামছেন কৃষক ও দিনমজুরেরা। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক হবিবর রহমান বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে সকালে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে অন্য দিনের তুলনায় কুয়াশা ও ঠান্ডা বেশি ছিল। ভোর ৬টার দিকে ধানখেতে কীটনাশক দিতে গিয়ে ঠান্ডায় শরীর ভিজে যায়। প্রচুর ঠান্ডা লাগছে বাহে।” তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে কম্বল ব্যবহার করছেন।
একই এলাকার কৃষক পুলিন চন্দ্র রায়ও সকালে ঠান্ডা ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়ার কথা জানিয়েছেন।
বালারহাট এলাকার অটোচালক গোলজার হোসেন বলেন, শীত পুরোপুরি আসার আগেই এত ঘন কুয়াশা দেখা যাবে, তা তিনি ভাবেননি। সকাল ৭টার দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে নিরাপদে চলাচলের জন্য হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকাল ৬টায় রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত ও সকালের তাপমাত্রার পার্থক্য, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভোরে কুয়াশা ও ঠান্ডার অনুভূতি বাড়লেও দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা ও গরম ভাব থাকছে। ফলে উত্তরাঞ্চলে শীতের স্থায়ী প্রভাব পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ভোরের কুয়াশা আর রাতের ঠান্ডা প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট করে তুলছে।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শরতের শেষপ্রান্তে প্রকৃতিজুড়ে ঋতু পরিবর্তনের আভাস। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে মাঠ-ঘাট, গ্রামীণ সড়ক ও জনপদ। ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু, বইছে হিমেল বাতাস। ভোরের এই বদলে যাওয়া প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে ভোরে এমন আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও ফসলের মাঠ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে গিয়ে দেখা মেলে রোদের। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও বিকেল থেকে আবার বাড়তে থাকে ঠান্ডার আমেজ। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের অনুভূতিও বাড়ে।
ভোরের কুয়াশায় গ্রামবাংলার প্রকৃতি যেন ধারণ করেছে নতুন রূপ। মাঠের পর মাঠে কুয়াশার আস্তরণ, গাছের পাতায় শিশির আর দূরের পথজুড়ে ধোঁয়াশা—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে বইছে ঋতু বদলের হাওয়া। তবে জীবিকার তাগিদে ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করেই মাঠে নামছেন কৃষক ও দিনমজুরেরা। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক হবিবর রহমান বলেন, “এক সপ্তাহ ধরে সকালে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে অন্য দিনের তুলনায় কুয়াশা ও ঠান্ডা বেশি ছিল। ভোর ৬টার দিকে ধানখেতে কীটনাশক দিতে গিয়ে ঠান্ডায় শরীর ভিজে যায়। প্রচুর ঠান্ডা লাগছে বাহে।” তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে কম্বল ব্যবহার করছেন।
একই এলাকার কৃষক পুলিন চন্দ্র রায়ও সকালে ঠান্ডা ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়ার কথা জানিয়েছেন।
বালারহাট এলাকার অটোচালক গোলজার হোসেন বলেন, শীত পুরোপুরি আসার আগেই এত ঘন কুয়াশা দেখা যাবে, তা তিনি ভাবেননি। সকাল ৭টার দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে নিরাপদে চলাচলের জন্য হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকাল ৬টায় রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত ও সকালের তাপমাত্রার পার্থক্য, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাতাসে আর্দ্রতার কারণে ভোরে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভোরে কুয়াশা ও ঠান্ডার অনুভূতি বাড়লেও দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা ও গরম ভাব থাকছে। ফলে উত্তরাঞ্চলে শীতের স্থায়ী প্রভাব পড়তে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ভোরের কুয়াশা আর রাতের ঠান্ডা প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট করে তুলছে।

আপনার মতামত লিখুন