বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, বেতন-ভাতা, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা,শিক্ষক দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যান্য পেশার তুলনায় শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অর্থনৈতিক অবস্থানের যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে হবে। শিক্ষকতার মর্যাদা শুধু সামাজিক সম্মানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা, জীবিকা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় জবি পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। যারা ভালোভাবে গবেষণা ও পাঠদান করতে সক্ষম, তাদের মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন না করে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জবি প্রক্টর ড. আজম খান বলেন,বাংলাদেশে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর দাবি না তুলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইউট্যাবের মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ড. নাছির আহমাদ বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় শিক্ষকদের অন্যান্য পেশার সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকতার মর্যাদা শুধু সম্মানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আত্মমর্যাদা, জীবিকা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য পেশায় বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাও শিক্ষকদের নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা জরুরি। এ জন্য শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও উপযুক্ত গ্রেড চালুর প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষকতা পেশাকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হয়, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও প্রশাসকসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষ ও মানবিক মানুষ তৈরি সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তারা শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত গবেষণা পরিবেশ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ইউট্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ইউট্যাবের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টিমুখ করান।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার, বেতন-ভাতা, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা,শিক্ষক দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যান্য পেশার তুলনায় শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অর্থনৈতিক অবস্থানের যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে হবে। শিক্ষকতার মর্যাদা শুধু সামাজিক সম্মানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষকদের আত্মমর্যাদা, জীবিকা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় জবি পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। যারা ভালোভাবে গবেষণা ও পাঠদান করতে সক্ষম, তাদের মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন না করে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
জবি প্রক্টর ড. আজম খান বলেন,বাংলাদেশে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের জন্য পৃথক বেতন কাঠামোর দাবি না তুলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইউট্যাবের মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ড. নাছির আহমাদ বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় শিক্ষকদের অন্যান্য পেশার সমপর্যায়ের সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকতার মর্যাদা শুধু সম্মানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আত্মমর্যাদা, জীবিকা ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য পেশায় বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাও শিক্ষকদের নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা জরুরি। এ জন্য শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ও উপযুক্ত গ্রেড চালুর প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষকতা পেশাকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহী হয়, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও প্রশাসকসহ বিভিন্ন পেশায় দক্ষ ও মানবিক মানুষ তৈরি সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তারা শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত গবেষণা পরিবেশ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ইউট্যাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে ইউট্যাবের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টিমুখ করান।

আপনার মতামত লিখুন