বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

দেশ ও মানুষের কল্যাণে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেবক’-এর উদ্যোগে স্কুলশিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রোড নং-১৩, ব্লক-এ অবস্থিত ফোকাস স্কুল ঢাকা প্রাঙ্গণে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন জনাব মনসুর আহমেদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার জনাব মো. আব্দুল বারী, ফোকাস স্কুল ঢাকার সিইও নূরজাহান মুক্তা, হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম এবং ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সেবক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিনিয়র প্রশিক্ষক খান মো. বাবুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে এ যাবৎ যতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তার মধ্যে সেবকের এই স্কুল প্রোগ্রামটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, সেবক সংগঠন যে ২২টি বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে জানা ও অনুসরণ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ওরাই আগামী দিনে গাড়ির মালিক হবে, ওরাই হবে যাত্রী, পথচারী অথবা চালক। ওরাই গড়বে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।”

বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল বারী বলেন, “সেবক সংগঠন নিজস্ব অর্থায়নে যে প্রকল্প চালু করেছে, তা দ্রুত সম্প্রসারণ করে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সংগঠনটির একার পক্ষে কঠিন এবং এতে বহু বছর সময় লাগতে পারে। সেবকের এই প্রোগ্রামটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, ততই আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল।”

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো সঠিকভাবে সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের নিয়ম না জানা। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কর্মসূচি দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

ফোকাস স্কুল ঢাকার সিইও নূরজাহান মুক্তা বলেন, “সেবক সংগঠন আজ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সেবক যে বিষয়গুলো আমাদের বাচ্চাদের শেখালো, এর মধ্যে অনেকগুলোই আমরা জানতাম, তবে বিস্তারিতভাবে জানতাম না; অনেক কিছুই আমাদের অজানা ছিল।

তিনি বলেন, দামি গাড়ি কেনার আগে গাড়ি ও সড়কের সঠিক ব্যবহার জানা জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ফোকাস স্কুল ঢাকার হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম এবং ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, “আমি সেবক সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। রোড সেফটি নিয়ে সেবকের কার্যক্রমগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেবক সংগঠনে আন্তরিকতা, সততা ও সহযোগিতার কোনো ঘাটতি নেই।”

তিনি জানান, সেবক সংগঠনের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৯ হাজার মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ডিফেনসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের মধ্যে দুর্ঘটনার হার শূন্য।

তিনি আরও বলেন, “করোনা মহামারি, বন্যা ও গণঅভ্যুত্থানে সেবকের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। আমি মনে করি, সেবক সংগঠনের পরিকল্পনা ও মডিউল অনুযায়ী ডিফেনসিভ ড্রাইভিং এবং জুনিয়র রোড সেফটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা, পথচারী হিসেবে করণীয়, যানবাহনে নিরাপদে চলাচল এবং সড়ক ব্যবহারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়

কর্মসূচিটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল এ এইচ খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং নাইশা এন্টারপ্রাইজ।

জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম স্কুল প্রোগ্রাম

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেবক সংগঠনের উদ্যোগে জুনিয়র রোড সেফটি স্কুল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশ ও মানুষের কল্যাণে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেবক’-এর উদ্যোগে স্কুলশিক্ষার্থীদের সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রোড নং-১৩, ব্লক-এ অবস্থিত ফোকাস স্কুল ঢাকা প্রাঙ্গণে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন জনাব মনসুর আহমেদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার জনাব মো. আব্দুল বারী, ফোকাস স্কুল ঢাকার সিইও নূরজাহান মুক্তা, হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম এবং ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের সিনিয়র উপদেষ্টা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সেবক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিনিয়র প্রশিক্ষক খান মো. বাবুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে এ যাবৎ যতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তার মধ্যে সেবকের এই স্কুল প্রোগ্রামটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, সেবক সংগঠন যে ২২টি বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে জানা ও অনুসরণ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ওরাই আগামী দিনে গাড়ির মালিক হবে, ওরাই হবে যাত্রী, পথচারী অথবা চালক। ওরাই গড়বে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ, ইনশাআল্লাহ।”

বিশেষ অতিথি মো. আব্দুল বারী বলেন, “সেবক সংগঠন নিজস্ব অর্থায়নে যে প্রকল্প চালু করেছে, তা দ্রুত সম্প্রসারণ করে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সংগঠনটির একার পক্ষে কঠিন এবং এতে বহু বছর সময় লাগতে পারে। সেবকের এই প্রোগ্রামটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, ততই আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল।”

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো সঠিকভাবে সড়ক ও যানবাহন ব্যবহারের নিয়ম না জানা। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কর্মসূচি দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

ফোকাস স্কুল ঢাকার সিইও নূরজাহান মুক্তা বলেন, “সেবক সংগঠন আজ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সেবক যে বিষয়গুলো আমাদের বাচ্চাদের শেখালো, এর মধ্যে অনেকগুলোই আমরা জানতাম, তবে বিস্তারিতভাবে জানতাম না; অনেক কিছুই আমাদের অজানা ছিল।

তিনি বলেন, দামি গাড়ি কেনার আগে গাড়ি ও সড়কের সঠিক ব্যবহার জানা জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ফোকাস স্কুল ঢাকার হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম এবং ভাইস প্রিন্সিপাল মুন মুন শিরিয়া উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন

অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, “আমি সেবক সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। রোড সেফটি নিয়ে সেবকের কার্যক্রমগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেবক সংগঠনে আন্তরিকতা, সততা ও সহযোগিতার কোনো ঘাটতি নেই।”

তিনি জানান, সেবক সংগঠনের সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৯ হাজার মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ডিফেনসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের মধ্যে দুর্ঘটনার হার শূন্য।

তিনি আরও বলেন, “করোনা মহামারি, বন্যা ও গণঅভ্যুত্থানে সেবকের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। আমি মনে করি, সেবক সংগঠনের পরিকল্পনা ও মডিউল অনুযায়ী ডিফেনসিভ ড্রাইভিং এবং জুনিয়র রোড সেফটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা, পথচারী হিসেবে করণীয়, যানবাহনে নিরাপদে চলাচল এবং সড়ক ব্যবহারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়

কর্মসূচিটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল এ এইচ খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং নাইশা এন্টারপ্রাইজ।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা