কেরানীগঞ্জে নির্ধারিত ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য চলতি বছরের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন চালু ও আবাসন বৃত্তির বকেয়া ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে এবং একই সঙ্গে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল দ্বারা শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আজ মানববন্ধন করে।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে জকসু। এতে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে জকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ব্যবহারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অস্থায়ী আবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, "অস্থায়ী আবাসনের বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করার জন্য ‘স্থায়ী আবাসন’ নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টেন্ডারবাজির পরিকল্পনা করছে। শিক্ষার্থীরা যেখানে পুরান ঢাকায় মেসে কষ্টে দিনাতিপাত করছে, সেখানে তাদের বঞ্চিত করে এ ধরনের হীন পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এ বছরেই ১৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭ একর জমিতে ৩ মাসের মধ্যে ১৬০০+ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং ১০ তলা ভবন নির্মাণের অজুহাতে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও টেন্ডার ধান্ধাবাজির চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। ৭ একরের সাড়ে ৬০০ শতাংশ জমির প্রকৃত ব্যবহার স্পষ্ট করা হয়নি। বাস টার্মিনালের জন্য জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তার ভাষায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জমির এক চুল পরিমাণও কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।"
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, "২০২৪ সালে আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এই প্রশাসনের অদক্ষতা, অকার্যকারিতা ও নানা ধরনের গড়িমসির কারণে আজ আবার আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে শুধু টেন্ডারবাজি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আপনি কত টাকা দিয়ে ভিসি হয়েছেন কিংবা কার কাছে টেন্ডার দেবেন এসব আমরা দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার চায়। সেই অধিকার নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে।"
জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, "চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকা পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন-চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।"
উপাচার্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আপনি যদি এই কাজ না করেন, তাহলে একজন ব্যর্থ উপাচার্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সেই সক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের এই দাবি বাস্তবায়ন করবেন।"
জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে থেকে পুরান ঢাকার মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।"
তিনি বলেন, "আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে ৭ একর জমিতে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।"
এছাড়াও মানববন্ধনে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনাটিও তুলে ধরা হয়। ওই ঘটনার বিচার না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করেন বক্তারা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কেরানীগঞ্জে নির্ধারিত ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য চলতি বছরের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন চালু ও আবাসন বৃত্তির বকেয়া ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়ে এবং একই সঙ্গে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল দ্বারা শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) আজ মানববন্ধন করে।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে জকসু। এতে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে জকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ ব্যবহারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অস্থায়ী আবাসনের পরিবর্তে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, "অস্থায়ী আবাসনের বরাদ্দের টাকা নয়ছয় করার জন্য ‘স্থায়ী আবাসন’ নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টেন্ডারবাজির পরিকল্পনা করছে। শিক্ষার্থীরা যেখানে পুরান ঢাকায় মেসে কষ্টে দিনাতিপাত করছে, সেখানে তাদের বঞ্চিত করে এ ধরনের হীন পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং এ বছরেই ১৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ৭ একর জমিতে ৩ মাসের মধ্যে ১৬০০+ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালুর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং ১০ তলা ভবন নির্মাণের অজুহাতে স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও টেন্ডার ধান্ধাবাজির চক্রান্ত চালানো হচ্ছে। ৭ একরের সাড়ে ৬০০ শতাংশ জমির প্রকৃত ব্যবহার স্পষ্ট করা হয়নি। বাস টার্মিনালের জন্য জমির অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়েও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তার ভাষায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও জমির এক চুল পরিমাণও কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।"
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, "২০২৪ সালে আমরা যখন আন্দোলন করেছিলাম, তখন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের পর আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এই প্রশাসনের অদক্ষতা, অকার্যকারিতা ও নানা ধরনের গড়িমসির কারণে আজ আবার আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে শুধু টেন্ডারবাজি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার অভিযোগেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আপনি কত টাকা দিয়ে ভিসি হয়েছেন কিংবা কার কাছে টেন্ডার দেবেন এসব আমরা দেখতে চাই না। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার চায়। সেই অধিকার নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে।"
জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, "চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে টাকা পাওয়ার পর প্রশাসন চাইলে তিন-চার মাসের মধ্যেই অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করতে পারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি।"
উপাচার্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আপনি যদি এই কাজ না করেন, তাহলে একজন ব্যর্থ উপাচার্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সেই সক্ষমতা ও যোগ্যতা রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের এই দাবি বাস্তবায়ন করবেন।"
জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিসে বসে থেকে পুরান ঢাকার মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়।"
তিনি বলেন, "আবাসন বৃত্তির ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে ৭ একর জমিতে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।"
এছাড়াও মানববন্ধনে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনাটিও তুলে ধরা হয়। ওই ঘটনার বিচার না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনা করেন বক্তারা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন