মাত্র ২১ মাস বয়সী ছোট্ট ফাতেমা। বয়স যখন খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে কাটার কথা, তখন দুরারোগ্য হৃদরোগে থমকে গেছে তার ছোট্ট জীবন। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল সে। স্থানীয় ও শহরের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে দেখিয়ে কিছুটা সুস্থও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনায় নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, ফাতেমার হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে। একের পর এক পরীক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন তারা। এখন অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ফাতেমার চিকিৎসা। চিকিৎসকরা চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভট্ট বলিয়াঘাটা এলাকায় ভোলা নদীর পাড়ের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন তারা। কখনো আবার শ্বশুরবাড়ি ও নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটে তাদের।
ফাতেমার বাবা দুঃখু শেখ পেশায় একজন বালু কাটার ড্রেজার শ্রমিক। মা সারমিন খাতুন গৃহিণী। তাদের ছোট্ট সংসারে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পেতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন ফাতেমার মা-বাবা। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত অর্থ জোগাড় করতে পারেননি। সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে চার লাখ টাকা জোগাড় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব।
ফাতেমার মা সারমিন খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। অনেক জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েছি। পরে জানতে পারি, ওর হার্টে ছিদ্র। মেয়েকে বাঁচাতে ঢাকায় নিয়ে গেছি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমার মেয়েটা বাঁচতে পারে।
ফাতেমার বাবা দুঃখু শেখ বলেন, ড্রেজারে শ্রমিকের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন আর হাতে কিছু নেই। মেয়েটার চিকিৎসা করাতে প্রায় চার লাখ টাকা দরকার। সবার কাছে সহযোগিতা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, এত ছোট একটি শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে—এটা খুবই দুঃখজনক। ফাতেমার চিকিৎসার জন্য সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলে হয়তো একটি শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, “ফাতেমার পরিবার খুবই অসহায়। মেয়েটার চিকিৎসার জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু টাকার অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভব।
এখন ফাতেমার বাবা-মায়ের একটাই আকুতি—অর্থের অভাবে যেন তাদের ছোট্ট মেয়েটির চিকিৎসা থেমে না যায়। ফাতেমাকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন প্রায় ৪ লাখ টাকা। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আবারও হাসতে পারবে ২১ মাসের ছোট্ট ফাতেমা।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
মাত্র ২১ মাস বয়সী ছোট্ট ফাতেমা। বয়স যখন খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে কাটার কথা, তখন দুরারোগ্য হৃদরোগে থমকে গেছে তার ছোট্ট জীবন। জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল সে। স্থানীয় ও শহরের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে দেখিয়ে কিছুটা সুস্থও হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনায় নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, ফাতেমার হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে। একের পর এক পরীক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন তারা। এখন অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ফাতেমার চিকিৎসা। চিকিৎসকরা চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।
বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভট্ট বলিয়াঘাটা এলাকায় ভোলা নদীর পাড়ের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন তারা। কখনো আবার শ্বশুরবাড়ি ও নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটে তাদের।
ফাতেমার বাবা দুঃখু শেখ পেশায় একজন বালু কাটার ড্রেজার শ্রমিক। মা সারমিন খাতুন গৃহিণী। তাদের ছোট্ট সংসারে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পেতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন ফাতেমার মা-বাবা। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত অর্থ জোগাড় করতে পারেননি। সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে চার লাখ টাকা জোগাড় করা তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব।
ফাতেমার মা সারমিন খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। অনেক জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েছি। পরে জানতে পারি, ওর হার্টে ছিদ্র। মেয়েকে বাঁচাতে ঢাকায় নিয়ে গেছি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব? সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমার মেয়েটা বাঁচতে পারে।
ফাতেমার বাবা দুঃখু শেখ বলেন, ড্রেজারে শ্রমিকের কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন আর হাতে কিছু নেই। মেয়েটার চিকিৎসা করাতে প্রায় চার লাখ টাকা দরকার। সবার কাছে সহযোগিতা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, এত ছোট একটি শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে—এটা খুবই দুঃখজনক। ফাতেমার চিকিৎসার জন্য সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলে হয়তো একটি শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, “ফাতেমার পরিবার খুবই অসহায়। মেয়েটার চিকিৎসার জন্য তারা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু টাকার অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভব।
এখন ফাতেমার বাবা-মায়ের একটাই আকুতি—অর্থের অভাবে যেন তাদের ছোট্ট মেয়েটির চিকিৎসা থেমে না যায়। ফাতেমাকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন প্রায় ৪ লাখ টাকা। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো আবারও হাসতে পারবে ২১ মাসের ছোট্ট ফাতেমা।

আপনার মতামত লিখুন