বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম

হলে থাকার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান জাকসুর

হলে থাকার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান জাকসুর
ছবি: বিপ্লবী বার্তা

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত নেতাদের পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছেন জাকসুর নেতারা। এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে জাকসুর একদল প্রতিনিধি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানান।

​এর আগে গত ২৯শে জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করতে পারবেন। 

তবে জাকসুর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পরদিন (৩০ জুলাই) পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দেয় জাকসু। ​জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমন একতরফা সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক ও ষড়যন্ত্রমূলক। এর ফলে আবাসিক হলগুলোতে অছাত্রদের অবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাকসুর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে, এমনকি কারও কোনো আবেদন না থাকা সত্ত্বেও স্বপ্রণোদিত হয়ে এই অবৈধ সুবিধা দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ রাজনৈতিক বা ছাত্র সংসদের পরিচয় ব্যবহার করে হলে থাকার সুবিধা পেতে পারেন না। প্রশাসনকে আজ আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম কেউ আবেদন করেছেন কি না, উপাচার্যও জানিয়েছেন কেউ আবেদন করেন নি।”

​তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হলগুলো অনিয়মে জর্জরিত, পুরোনো হলগুলো বসবাসের অনুপযোগী, একাডেমিক সংস্কারে কোনো নজর নেই এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য লিফট স্থাপনের মতো জরুরি বিষয়গুলোতে প্রশাসনের ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ কোনো আবেদন ছাড়াই একটি অবৈধ সুবিধা দিতে তারা তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছি। একই সঙ্গে হলগুলোতে অবস্থানরত সব অছাত্র ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কালকের মধ্যে এর সমাধান না হলে জাকসু কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।”

​শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জাকসুতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ এক বছর হলেও অনেকেরই ছাত্রত্বের মেয়াদ তার আগেই শেষ হয়ে যায়। যেহেতু তারা নির্বাচিত, তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের তাদের কাছ থেকে সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের গঠনতন্ত্রে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকায় প্রশাসনিক সভায় আমরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলাম, যাতে তারা মেয়াদ পূর্ণ করে শিক্ষার্থীদের সেবা দিতে পারে।”

​উপাচার্য আরও বলেন, “তবে আমরা এখন দেখছি, জাকসু নেতাদের অনেকেই শিক্ষাজীবন শেষে হলে থাকতে চান না। জাকসুর একজন এজিএস প্রস্তাব দিয়েছেন যে, কেউ ব্যক্তিগতভাবে থাকতে চাইলে আবেদন করবেন, কিন্তু ঢালাওভাবে জাকসুর নামে এটি হওয়া উচিত নয়। আমরা বিষয়টি পুনরায় প্রশাসনিক সভায় তুলব এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”

জাবি জাকসু ভাইস চ্যান্সেলর

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


হলে থাকার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান জাকসুর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত নেতাদের পদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছেন জাকসুর নেতারা। এ সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে জাকসুর একদল প্রতিনিধি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানান।

​এর আগে গত ২৯শে জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করতে পারবেন। 

তবে জাকসুর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পরদিন (৩০ জুলাই) পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দেয় জাকসু। ​জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এমন একতরফা সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক ও ষড়যন্ত্রমূলক। এর ফলে আবাসিক হলগুলোতে অছাত্রদের অবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাকসুর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে, এমনকি কারও কোনো আবেদন না থাকা সত্ত্বেও স্বপ্রণোদিত হয়ে এই অবৈধ সুবিধা দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কেউ রাজনৈতিক বা ছাত্র সংসদের পরিচয় ব্যবহার করে হলে থাকার সুবিধা পেতে পারেন না। প্রশাসনকে আজ আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম কেউ আবেদন করেছেন কি না, উপাচার্যও জানিয়েছেন কেউ আবেদন করেন নি।”

​তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হলগুলো অনিয়মে জর্জরিত, পুরোনো হলগুলো বসবাসের অনুপযোগী, একাডেমিক সংস্কারে কোনো নজর নেই এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য লিফট স্থাপনের মতো জরুরি বিষয়গুলোতে প্রশাসনের ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ কোনো আবেদন ছাড়াই একটি অবৈধ সুবিধা দিতে তারা তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানিয়েছি। একই সঙ্গে হলগুলোতে অবস্থানরত সব অছাত্র ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কালকের মধ্যে এর সমাধান না হলে জাকসু কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।”

​শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “জাকসুতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ এক বছর হলেও অনেকেরই ছাত্রত্বের মেয়াদ তার আগেই শেষ হয়ে যায়। যেহেতু তারা নির্বাচিত, তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের তাদের কাছ থেকে সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের গঠনতন্ত্রে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকায় প্রশাসনিক সভায় আমরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলাম, যাতে তারা মেয়াদ পূর্ণ করে শিক্ষার্থীদের সেবা দিতে পারে।”

​উপাচার্য আরও বলেন, “তবে আমরা এখন দেখছি, জাকসু নেতাদের অনেকেই শিক্ষাজীবন শেষে হলে থাকতে চান না। জাকসুর একজন এজিএস প্রস্তাব দিয়েছেন যে, কেউ ব্যক্তিগতভাবে থাকতে চাইলে আবেদন করবেন, কিন্তু ঢালাওভাবে জাকসুর নামে এটি হওয়া উচিত নয়। আমরা বিষয়টি পুনরায় প্রশাসনিক সভায় তুলব এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।”


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা