বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে, আইন আছে, সরকার আছে তারাই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা টের পাচ্ছি জনগণ এখনও সেই লাল জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে। এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এই দেশের জনগণ কখনো বরদাস্ত করবে না। র্যাব পুলিশ, সেনাবাহিনী, আধিপত্যবাদী শক্তির সমস্ত রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই জনগণই কিন্তু ফ্যাসিবাদের এই রানীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তারা এ দেশে কিন্তু এখনও আছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই দেশের রাজনীতির যত গন্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি—সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো উনারা (দিল্লি) করে বলে মন্তব্য করেছেন ।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জেনেভা কনভেনশন আইন, বন্দি বিনিময় আইন,সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সকল প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করার জন্য আরাম-আয়েশে দিল্লিতে তাকে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আমি মনে করি, আমরা সব প্রতিবেশীর সাথে যেমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, দেশের স্বার্থে, ন্যায্য সম্পর্ক চাই; কিন্তু একের পর এক একটা দেশের রাজনীতি, সরকার এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী পদক্ষেপ নিলে দেশের জনগণ তো সেটা পছন্দ করে না।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা চায় সংশোধন। অথচ বিএনপি যে ৩১ দফার কথা বারবার বলে রাষ্ট্র সংস্কারে—৩১ দফার এক নম্বর দফা পড়ে দেখবেন। আপনি গুগলে সার্চ দেন, পাবেন। ৩১ দফার এক নম্বরে বিএনপি স্বীকার করেছিল যে, ‘আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য একটা কমিশন গঠন করব।’ কই? এখন তারা সংস্কার কয় না, এখন তো সংশোধন কয়। তাহলে জাতির কাছে দেওয়া কথা তারা রক্ষা করলো না, অঙ্গীকার ভঙ্গ করল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির উচিত দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, শপথ গ্রহণ করা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করা। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন, তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন গঠিত সরকার আসার পর কয়েক মাসে দেশে অসংখ্য জনদুর্ভোগ চলছে। অসহনীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি; হত্যা, নির্যাতন, শিশু ধর্ষনসহ বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ, তাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না; তাদের উদ্ধার, পুনর্বাসনের তেমন কোনো সরকারি পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো: ইব্রাহিম ভুইয়ার সভাপতিত্বে এবং টীম সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম,নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মশিউল আলম, নারায়নগঞ্জ মহানগরীর আমীর আব্দুল জব্বার সহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে, আইন আছে, সরকার আছে তারাই শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা টের পাচ্ছি জনগণ এখনও সেই লাল জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে। এই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে এই দেশের জনগণ কখনো বরদাস্ত করবে না। র্যাব পুলিশ, সেনাবাহিনী, আধিপত্যবাদী শক্তির সমস্ত রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই জনগণই কিন্তু ফ্যাসিবাদের এই রানীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। তারা এ দেশে কিন্তু এখনও আছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই দেশের রাজনীতির যত গন্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি—সবকিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো উনারা (দিল্লি) করে বলে মন্তব্য করেছেন ।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, জেনেভা কনভেনশন আইন, বন্দি বিনিময় আইন,সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সকল প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করার জন্য আরাম-আয়েশে দিল্লিতে তাকে থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আমি মনে করি, আমরা সব প্রতিবেশীর সাথে যেমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, দেশের স্বার্থে, ন্যায্য সম্পর্ক চাই; কিন্তু একের পর এক একটা দেশের রাজনীতি, সরকার এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী পদক্ষেপ নিলে দেশের জনগণ তো সেটা পছন্দ করে না।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা চায় সংশোধন। অথচ বিএনপি যে ৩১ দফার কথা বারবার বলে রাষ্ট্র সংস্কারে—৩১ দফার এক নম্বর দফা পড়ে দেখবেন। আপনি গুগলে সার্চ দেন, পাবেন। ৩১ দফার এক নম্বরে বিএনপি স্বীকার করেছিল যে, ‘আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংস্কারের জন্য একটা কমিশন গঠন করব।’ কই? এখন তারা সংস্কার কয় না, এখন তো সংশোধন কয়। তাহলে জাতির কাছে দেওয়া কথা তারা রক্ষা করলো না, অঙ্গীকার ভঙ্গ করল।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির উচিত দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে পার্লামেন্টে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা, শপথ গ্রহণ করা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করা। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন, তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, নতুন গঠিত সরকার আসার পর কয়েক মাসে দেশে অসংখ্য জনদুর্ভোগ চলছে। অসহনীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি; হত্যা, নির্যাতন, শিশু ধর্ষনসহ বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ, তাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না; তাদের উদ্ধার, পুনর্বাসনের তেমন কোনো সরকারি পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো: ইব্রাহিম ভুইয়ার সভাপতিত্বে এবং টীম সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম,নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মশিউল আলম, নারায়নগঞ্জ মহানগরীর আমীর আব্দুল জব্বার সহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন