বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বড় ভাই নিহত

ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বড় ভাই নিহত
সদর হাসপাতাল। ছবি: বিপ্লবী বার্তা

নরসিংদী শহরে ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের (কেঁচি) আঘাতে বড় ভাই আল আমিন (৩০) নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আল আমিন রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের আতশআলি বাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল আমিন ও ঘাতক হাসানরা পাঁচ ভাই ও দুই বোন। তারা নরসিংদী শহরে মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে চৌয়ালা এলাকার হাবিবের ছেলে নাইম তাদের বোন (দুই সন্তানের জননী) তাসলিমা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় নাইমের সঙ্গে ভাইদের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাইমের ভয়ে তারা নরসিংদী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

গত তিন দিন আগে বড় ভাই আল আমিন উদ্যোগ নিয়ে অভিযুক্ত নাইমের সাথে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং পুনরায় শহরে ভাড়া বাসায় উঠেন। তবে এই মীমাংসা মেনে নিতে পারেননি ছোট ভাই হাসান। এ নিয়ে রাতে হাসানের সাথে বড় ভাইয়ের কথা কাটাকাটি ও হুমকি-ধামকির ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ওত পেতে থাকা হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, নাইমের সাথে দ্বন্দ্ব আমরা মীমাংসা করলেও নাইম আমার ননদকে উত্ত্যক্ত করা থামায়নি। সে আমার দেবরকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তিন দিন আগে নরসিংদীতে ফিরে আসলেও আমার ছোট দেবর হাসান এই ক্ষোভ থেকে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে গভীর ক্ষত ছিল।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছোট ভাই হাসান এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা নাইমকে আটক করা হয়েছে। নাইমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

পুলিশ আসামি আদালত হত্যাকাণ্ড

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বড় ভাই নিহত

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

নরসিংদী শহরে ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের (কেঁচি) আঘাতে বড় ভাই আল আমিন (৩০) নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। শনিবার (২ মে) সকালে শহরের সাটিরপাড়া এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আল আমিন রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের আতশআলি বাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। তারা শহরের চৌয়ালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।


নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল আমিন ও ঘাতক হাসানরা পাঁচ ভাই ও দুই বোন। তারা নরসিংদী শহরে মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে চৌয়ালা এলাকার হাবিবের ছেলে নাইম তাদের বোন (দুই সন্তানের জননী) তাসলিমা বেগমকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় নাইমের সঙ্গে ভাইদের চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাইমের ভয়ে তারা নরসিংদী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।


গত তিন দিন আগে বড় ভাই আল আমিন উদ্যোগ নিয়ে অভিযুক্ত নাইমের সাথে বিষয়টি মীমাংসা করেন এবং পুনরায় শহরে ভাড়া বাসায় উঠেন। তবে এই মীমাংসা মেনে নিতে পারেননি ছোট ভাই হাসান। এ নিয়ে রাতে হাসানের সাথে বড় ভাইয়ের কথা কাটাকাটি ও হুমকি-ধামকির ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ওত পেতে থাকা হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, নাইমের সাথে দ্বন্দ্ব আমরা মীমাংসা করলেও নাইম আমার ননদকে উত্ত্যক্ত করা থামায়নি। সে আমার দেবরকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তিন দিন আগে নরসিংদীতে ফিরে আসলেও আমার ছোট দেবর হাসান এই ক্ষোভ থেকে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।


নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে গভীর ক্ষত ছিল।


নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছোট ভাই হাসান এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা নাইমকে আটক করা হয়েছে। নাইমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা