ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার তুলাতলা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়কে ভয়াবহ ধস নেমেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা মানুষ এবং ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে তুলাতলা এলাকায় এই খননকাজ শুরু হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খনন করার সময় কোনো কারিগরি পরিকল্পনা মানা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বারবার নিষেধ করলেও ভেকু চালক আমাদের কথা শোনেননি। তার মনগড়া খননের কারণে এখন আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সত্তোরোর্ধ্ব ইউসুফ মোল্লা জানান, তার সামনেই রাস্তার পাশ খাড়া করে কাটা হয়েছে। সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি, যার ফলে এখন রাস্তা ধসে পড়েছে।
এদিকে ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে সামান্য ফাটল ছিল, পরে দেখি বড় ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকতে পারে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তুলাতলা এলাকার খননকাজও এই বৃহৎ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনন শেষ হলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, খাল খননে সংশ্লিষ্টদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু 'দায়সারা সংস্কার' নয়; বরং স্থায়ী ও টেকসই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় বর্ষায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার তুলাতলা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়কে ভয়াবহ ধস নেমেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগী, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা মানুষ এবং ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে তুলাতলা এলাকায় এই খননকাজ শুরু হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খনন করার সময় কোনো কারিগরি পরিকল্পনা মানা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বারবার নিষেধ করলেও ভেকু চালক আমাদের কথা শোনেননি। তার মনগড়া খননের কারণে এখন আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সত্তোরোর্ধ্ব ইউসুফ মোল্লা জানান, তার সামনেই রাস্তার পাশ খাড়া করে কাটা হয়েছে। সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি, যার ফলে এখন রাস্তা ধসে পড়েছে।
এদিকে ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে সামান্য ফাটল ছিল, পরে দেখি বড় ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকতে পারে।
উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তুলাতলা এলাকার খননকাজও এই বৃহৎ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনন শেষ হলে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, খাল খননে সংশ্লিষ্টদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু 'দায়সারা সংস্কার' নয়; বরং স্থায়ী ও টেকসই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় বর্ষায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন