বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে লাশ বহনের খাটিয়ায় পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দিয়েছে। এতে খাটিয়া থেকে লাশ মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে যায় এবং খাটিয়াবাহী চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে।সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের বকুলতলা নামক এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পণ্যবাহী পিকআপ গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। ওই এলাকার একজন মৃত ব্যক্তির জানাজা শেষে দাফনের জন্য খাটিয়ায় করে কবরস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বকুলতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির পিকআপটি খাটিয়া বহনকারীদের সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে খাটিয়াটি ভেঙে লাশ মাটিতে পড়ে যায় এবং খাটিয়া বহনকারী চারজন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।আহতরা হলেন মৃত ব্যক্তির ছেলে মো. ওলি, শ্যালক নাছির, ভাগ্নে রেজা এবং নাতি সম্পর্কের আরও একজন। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেন।এদিকে, এই অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও জানাজায় আসা লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ধাওয়া করে পিকআপ গাড়িটি আটকে ফেলেন এবং সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার জেরে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের দুই পাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।খবর পেয়ে নলছিটি থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পিকআপের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে শান্ত করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাত ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। ঘাতক পিকআপের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।