তীব্র তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। জ্বালানি সংকট ও চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই ত্রাহি অবস্থা। দিনে-রাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার গেলে এক ঘণ্টার আগে ফেরার নাম নেই। বিশেষ করে গভীর রাতেও বারবার লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। গরম সইতে না পেরে অনেককে মাঝরাতেও বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। তবে মশার উপদ্রব আর গরমের কারণে সেখানেও স্বস্তি মিলছে না। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগব্যাধির ঝুঁকিতে পড়ছেন।
বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ার টেবিলে বসা যেমন দায় হয়ে পড়েছে, তেমনি পরীক্ষার হলেও ঘামতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে অনেক জায়গায় সেচযন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা আউশ ও বোরো ধানের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
দর্শনা রেলবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশনার পর এখন ঘন ঘন লোডশেডিং তাদের লোকসানের মুখে ফেলেছে। কম্পিউটার ও অনলাইন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় তারা কোনো কাজ সময়মতো শেষ করতে পারছেন না। স্থানীয় চা বিক্রেতা ও ছোট দোকানদারদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ক্রেতা হারাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম আলহাজ উদ্দীন সেখ বলেন, "বর্তমানে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়লে এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।"
পিজিসিবি ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় তারা লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি তিনি।
চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের দাবি, এই অসহনীয় গরমে অন্তত রাতে ও সেচের সময় যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
তীব্র তাপপ্রবাহ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং। জ্বালানি সংকট ও চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই ত্রাহি অবস্থা। দিনে-রাতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার গেলে এক ঘণ্টার আগে ফেরার নাম নেই। বিশেষ করে গভীর রাতেও বারবার লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। গরম সইতে না পেরে অনেককে মাঝরাতেও বাড়ির বাইরে অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে। তবে মশার উপদ্রব আর গরমের কারণে সেখানেও স্বস্তি মিলছে না। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা নানা রোগব্যাধির ঝুঁকিতে পড়ছেন।
বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা চলায় শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ার টেবিলে বসা যেমন দায় হয়ে পড়েছে, তেমনি পরীক্ষার হলেও ঘামতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে অনেক জায়গায় সেচযন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা আউশ ও বোরো ধানের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
দর্শনা রেলবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশনার পর এখন ঘন ঘন লোডশেডিং তাদের লোকসানের মুখে ফেলেছে। কম্পিউটার ও অনলাইন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় তারা কোনো কাজ সময়মতো শেষ করতে পারছেন না। স্থানীয় চা বিক্রেতা ও ছোট দোকানদারদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ক্রেতা হারাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম আলহাজ উদ্দীন সেখ বলেন, "বর্তমানে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না বাড়লে এই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।"
পিজিসিবি ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় তারা লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি তিনি।
চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের দাবি, এই অসহনীয় গরমে অন্তত রাতে ও সেচের সময় যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন