নোয়াখালীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় গৃহবধূ ধর্ষণ ও নির্বাচন-পরবর্তী দেশব্যাপী সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শহীদ মিনারে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। 


​সমাবেশে নবনির্বাচিত দলের নেতাকর্মীদের উগ্র আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন যাত্রার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু লজ্জার বিষয়, নির্বাচনের মাত্র দুই দিনের মাথায় বিজয়ী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হচ্ছে। আপনারা যদি দানব হয়ে উঠেন তাহলে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চুপ করে থাকবে না।”


​জাতীয় ছাত্রশক্তি কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নাহিদ হাসান ইমন বিগত দিনের সংগ্রামের স্মৃতিচারন করে বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য ১৬-১৭ বছর লড়াই করার পর জাতি এই পুরস্কার আশা করেনি। ২০১৮ সালে ধানের শীষে ভোট দিয়ে একজন চার সন্তানের জননী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, আর ২০২৬-এ এসে ভোটের পরদিন সেই একই দলের কর্মীরা ধর্ষণকাণ্ড উপহার দিচ্ছে —এটা অকল্পনীয়। তারেক রহমান সাহেবকে বলব, আপনার লাগামছাড়া নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন।  আমরা দেখেছি ছোট ছোট স্ফুলিঙ্গ থেকে কিন্তু বড় আগুনের উৎপত্তি হয়। যেমন কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে মানুষ নিজের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে হাসিনাকে দেশ ছাড়া করেছিল, আমরা চাই না আমাদের অভ্যুত্থানের কোন শক্তি এরকম কিছুর সম্মুখিন হোক।”


​সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সারা দেশে বিএনপি ও তাদের সহযোগীরা যেভাবে লুটপাট ও সহিংসতা চালাচ্ছে, তার দায় নেতৃত্বকেই নিতে হবে। হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপরাধে তিন সন্তানের জননীকে যে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আপনারা যদি নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠেন, তবে মনে রাখবেন আওয়ামী লীগের পতনে ৩৬ দিন লেগেছিল, আপনাদের পতনে ৩৬ ঘণ্টাও লাগবে না।”


​তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান বা বেগম জিয়ার আদর্শের বিএনপি এমন ছিল না। আমরা চাই প্রতিটি সহিংসতার বিচার হোক, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”


​এছাড়াও সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে যোগ দেন জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আলী হাসান ওসামা এবং পরিবহন সম্পাদক তানভীর রহমান।