গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় বয়স কোনো বাধা নয়, এ কথা আবারও প্রমাণ করলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ১১০ বছর বয়সী মনোয়ারা খাতুন। বার্ধক্যজনিত কারণে হাটাচলায় অক্ষম হলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে পুত্রবধূর কাধে ভর করে তিনি পৌছে গেলেন ভোটকেন্দ্রে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ফিরলেন বাড়ি, মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৩ নম্বর কেন্দ্রের ৫ নম্বর বুথে ভোট দেন মনোয়ারা খাতুন। তিনি সদর উপজেলার বগাপাড়া গ্রামের মৃত গোলাম রব্বানীর স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও ভোট দেওয়ার ইচ্ছা ছিল প্রবল। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পুত্রবধূ রাজিয়া খাতুন ভ্যানে করে তাকে কেন্দ্রের সামনে নিয়ে আসেন। পরে কাধে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে বুথ পর্যন্ত পৌছে দেন। ভোট দেওয়া শেষে একইভাবে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঝেও এই দৃশ্য ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই শতবর্ষী এই নারীর সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।
পুত্রবধূ রাজিয়া খাতুন বলেন, আল্লাহ আমার শাশুড়িকে দীর্ঘ হায়াত দিয়েছেন। তিনি ভোট দিতে পেরে খুবই খুশি হয়েছেন। ভোট দেওয়া তার কাছে দায়িত্বের বিষয়।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শামীম রেজা জানান, মনোয়ারা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা পুত্রবধূর কাধে ভর করে ভোট দিতে এসেছিলেন। আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহায়তা করেছি। ভোট দিয়ে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও জানান, ৮৩ নম্বর কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৬৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৭৮৭ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৮৬০ জন। বেলা ১১টা পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০টি ভোট পড়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
দামুড়হুদার এই শতবর্ষী নারীর উপস্থিতি শুধু একটি ভোটদানের ঘটনা নয়,এ যেন দায়িত্ববোধ, সচেতনতা আর গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থার এক জীবন্ত প্রতীক।

