ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা দুটি পৃথক অভিযোগ-মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক রবিউল আলম।
বিচারক আদালত সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শাস্তিসমূহ হলো:
🔹 শেখ হাসিনা-কে ওই দুই মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা প্রদান করা হয়েছে; জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১ বছর অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
🔹 তার ভাগ্নি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক-কে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা; অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ১ বছর অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
🔹 একই মামলায় আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি-কে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ আরও ১৪ জনকে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, এবং একজনকে ১ থেকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন একমাত্র আসামি, রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বর্তমানে কারাগারে থাকার কারণে তাকে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানায় ব্যর্থ হলে ৬ মাস অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আজ রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা খুরশীদ আলমকেই আদালতে হাজির করা হয়; রায়ের পর তাকে সাজার পরোয়ানা সহ পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায় ঘোষণার পর বাকী সব দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেন।
পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, তার বোন শেখ রেহানা, তার দুই কন্যা টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক, এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি সহ পরিবারের বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতির তদন্ত সংস্থা দুদক। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রায় এসেছে।
এই মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আসামিরা অযোগ্যভাবে পূর্বাচলের সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

