অপেক্ষার অবসান: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল হাইতি
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে হাইতি। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলবে ক্যারিবীয় দেশটি। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছেন দলের ডিফেন্ডার রিকার্ডো আদে।


বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পায়নি হাইতি। সব ম্যাচই খেলতে হয়েছে কুরাসাওয়ে। দীর্ঘ ভ্রমণ, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে দলটি।


সম্প্রতি ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিকার্ডো আদে বলেন, “হাইতির মানুষের জীবনে লড়াই সবসময়ই আছে। সহজ কিছু কখনোই ছিল না। পরিবর্তনের আশায় লড়াই করাই আমাদের পরিচয়। বিশ্বকাপেও সেই লড়াইয়ের মানসিকতা থাকবে।”


ড্র অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’-তে হাইতির প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। কঠিন এই গ্রুপ নিয়েও আশাবাদী আদে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে এলে সহজ কোনো গ্রুপ থাকে না। আমরা ধাপে ধাপে এগোবো। আমাদেরও প্রতিপক্ষকে ক্ষতি করার সামর্থ্য আছে।”


নিজের ক্যারিয়ার পথও ছিল সংগ্রামে ভরা। স্বপ্ন পূরণের জন্য দেশ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। প্রথমে থাইল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লোয়ার ডিভিশনে। ২৬ বছর বয়সে চিলির ক্লাব সান্তিয়াগো মর্নিংয়ে প্রথম পেশাদার চুক্তি পান আদে। পরে যোগ দেন ইকুয়েডরের ক্লাব এলডিইউ কুইটোতে। ২০২৩ সাল থেকে সেখানেই খেলছেন তিনি।


ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার অনুভূতি আদের কাছে বিশেষ কিছু। ২০০৪ সালে ‘গেম অব পিস’ ম্যাচে ব্রাজিল দল হাইতিতে এসেছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। রোনালদিনহো, রোনালদো ও রবার্তো কার্লোসদের খেলা টেলিভিশনে দেখেছিলেন তিনি। এবার সেই ব্রাজিলের বিপক্ষেই বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন।
আদে বলেন, “ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা খেললে হাইতিতে উৎসব হয়। তাদের বিপক্ষে মাঠে নামা স্বপ্নের মতো। ঈশ্বর আমাকে আশীর্বাদ করেছেন।”


২০১৮ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লা বোম্বোনেরায় খেলেছিলেন আদে। লিওনেল মেসির নৈপুণ্যে ৪-০ ব্যবধানে হারে হাইতি। সেই ম্যাচের স্মৃতি আজও স্পষ্ট তার মনে।
বিশ্বকাপে যদি আরেকজন তারকার বিপক্ষে খেলতে চান— এমন প্রশ্নে আদে জানান, তার পছন্দ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রোনালদোকেই নিজের আদর্শ মনে করেন তিনি।

আগামী ১৩ জুন বোস্টন স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে হাইতি। সেই ম্যাচে মাঠে নামবে ১১ জন খেলোয়াড়, কিন্তু প্রতিনিধিত্ব করবে পুরো একটি জাতির স্বপ্ন ও সংগ্রাম।