ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থার দেখা মিলছে ডিমের বাজারেও। এতে খামারিদের মধ্যে নতুন করে বাচ্চা তোলার আগ্রহ কমেছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারে তুলনামূলক কম দামে ব্রয়লার মুরগি পাওয়া যাওয়ায় ক্রেতারা খুশি। তারা বলছেন, দাম যে হারে বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমন বাড়েনি। বরং কমতির দিকেই ছিল।
দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের স্বস্তি পাওয়া গেলেও খুচরা বিক্রেতাদের লাভের হিসাব তেমন প্রভাবিত হয়নি। তবে বাজারে একটি মন্দাভাব বিরাজ করছে। বিক্রেতারা জানান, গত এক বা দুই মাস ধরে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আর দাম কম থাকলে সুবিধা হয়; কারণ বেচাবিক্রি বাড়ে।
মূল্যস্ফীতির বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশ খানিকটা কমেই বিক্রি হচ্ছে মাঝে মাঝেই গরম হওয়া ডিমও। বিক্রেতারা জানান, লাল ডিমের বাজার চলছে ১১০ টাকা ডজন এবং সাদা ডিম ১০০ টাকায়। দাম কমলেও লাভের পরিমাণ প্রায় আগের মতোই রয়েছে।
ডিম ও মুরগির দাম কমে লোকসানের বোঝা ভারি হওয়ায় খামারিরা নতুন করে বাচ্চা তুলতে আগ্রহী নন। তারা বলছেন, এক হাজার মুরগি পালাতে যে খরচ হয়, তা বিক্রি করে লাভের বদলে অনেকটাই লোকসান হয়। তাই অনেকেরই মনে সংশয় দেখা দিয়েছে, তারা নতুন করে মুরগি তুলবেন কি না।
সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একেকটি ডিম রাজধানীর খুচরা বাজারে ৯ থেকে সোয়া ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এক হালির দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা এবং এক বছর আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
তবে উৎপাদন খরচ সরকারি হিসাবে ১০ টাকা ১৯ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার এক কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ সরকারি হিসাবে ১৬০ টাকা ৮৭ পয়সা হলেও খুচরা পর্যায়ে এটি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়।
খামার পর্যায়ে যে দাম ১২০ টাকার নিচে নেমেছে বলে দাবি করেছে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)। সংস্থার সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ডিম, মুরগি, বাচ্চা ও ফিড সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে লোকসান হচ্ছে। যদি হাজার হাজার মুরগি থাকে, সেখানে ক্ষতির পরিমাণ বোঝা যায়।’
কখনও এমন দাম বিপর্যয়; কখনও আবার ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগামছাড়া- এমন নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে খামারি-ভোক্তার লাভজনক অবস্থান নিশ্চিতে চাহিদা-যোগানের কৌশলপত্র বাস্তবায়নের দাবি বিএবির। মাহাবুবুর রহমান বলেন, পোল্ট্রি উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয় না হলে হাজার হাজার ক্ষুদ্র খামারি শিল্প থেকে ঝরে পড়বেন।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র খামারি টিকিয়ে রাখতে সরকারের সঙ্গে বড় উদ্যোক্তাদের কাজ করার তাগিদ দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উৎপাদন বিভাগের পরিচালক ডা. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান বলেন, ভোক্তা ব্রয়লার মুরগি কিনছে ১৭৫-১৮০ টাকায়, কিন্তু খামারি বিক্রি করছেন ১২০-১২৫ টাকায়। শিল্প সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় খামারিদের রক্ষা করার ব্যবস্থা করছি।
এছাড়া আকস্মিক লোকসান থেকে খামারি ও পোল্ট্রিখাতকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার বলেও মনে করে প্রাণিসম্পদ অধিদতফর।

