আগামী তিন বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে,ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরই ৪৩ থেকে ৪৫ হাজার নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং ক্যানসার ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে অন্তত ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সভাকক্ষে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা এ বছর ৪৩ থেকে ৪৫ হাজার নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেব। এই নিয়োগের ধারাবাহিকতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের যুক্ত করে মোট এক লাখ ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চাই।আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। এই দুটি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্য বিভাগ হচ্ছে অত্যন্ত কমপ্লেক্স সেক্টর।এটি সড়ক নির্মাণ, রেললাইন তৈরি কিংবা স্কুলঘর নির্মাণের মতো নয়। স্বাস্থ্য খাতের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে, যার সবগুলোকে একসঙ্গে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সহজ নয়। এ খাতের পরিবর্তন অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না-ও হতে পারে। তবে আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, সামনে যত এগিয়ে যাবেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবর্তন তত দেখতে পাবেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা সেই পরিবর্তনেরই অংশ।তিনি আরোও বলেন,আমরা নিশ্চিত করতে চাই, বাগেরহাটের মানুষ হোক, চরাঞ্চল, পাহাড়, সমতল, শহর কিংবা গ্রামের বাসিন্দা হোক—বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার যেন নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা বছরে তিন থেকে চারবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিটি পরিবারের কাছে যাবেন। পরিবারের সদস্যদের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং গর্ভবতী মায়েদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও চেকআপের আওতায় আনার কাজ করবেন। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে অনেক নারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দেরিতে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কারণে সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। নতুন স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ শনাক্ত করতে সহায়তা করবেন। এর ফলে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং ক্যানসারে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন,প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করা হবে। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে অন্তত ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে। এসব মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হবে।বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আবু রাসেল এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডা. আ. স. মো. মাহবুবুল আলম।এ ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সভায় উপস্থিত ছিলেন।সভায় বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট ও সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।