জোড়াতালির মেরামতে মেয়াদোত্তীর্ণ কুড়িগ্রামের সোনাহাট সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জোড়াতালির মেরামতে কোনোমতে টিকে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ সোনাহাট সেতু। নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। এর ওপর প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফলে রোগী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ সোনাহাট স্থলবন্দরগামী ব্যবসায়ী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে নির্মিত হয় সোনাহাট সেতুটি। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটির নির্ধারিত আয়ুষ্কাল ১০০ বছর হলেও তা প্রায় চার দশক আগেই শেষ হয়েছে। এরপরও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়েই যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও লোহার পাত খুলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও কিছুদিন পরই আবার তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সেতুর স্টিলের একটি পাটাতন দেবে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে লাল পতাকা টানিয়ে সতর্ক করা হয়। পরে মেরামতকাজের জন্য পরদিন সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল।স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিন পাথরবোঝাই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, বাস, অটোরিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। সেতুতে কোনো যানবাহন বিকল বা আটকে গেলে মুহূর্তেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি মেরামত করে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের তিন ইউনিয়ন এবং কচাকাটা থানার চারটি ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।২০১২ সালে সোনাহাট স্থলবন্দর চালুর পর এই সড়কে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে পুরোনো সেতুটির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।এদিকে সোনাহাট স্থলবন্দর ও ভুটানের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতুর দক্ষিণ পাশে ২০১৯ সালে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ নতুন পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুটির কাজ শেষ হয়নি। কবে নাগাদ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবির ফাহিম বলেন, তিনি নিয়মিত এই সেতু দিয়ে কলেজে যাতায়াত করেন। সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে যানজটে পড়ে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে কলেজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, “ভাঙা ও নড়বড়ে সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। নতুন সেতুর নির্মাণকাজ বিলম্বিত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।