বিপ্লবী বার্তা

রাজনৈতিক ঘুষের বৃত্তে মেহেরপুরের সার লাইসেন্স: সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, অনিয়মের প্রতিবাদে স্বারকলিপি প্রদান।

মেহেরপুর জেলায় নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী ও রাজনৈতিক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলে এই প্রভাবশালী চক্রটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে। তারা জানান এই চক্রের মূল উৎস নতুন সার ডিলার নিয়োগের সাম্প্রতিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই মেহেরপুরের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও দালাল চক্র লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলে তারা প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া শুরু করে।টাকার এই চোরাস্রোত ডিলারশিপের পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি বড় সিন্ডিকেটের মধ্যে বন্দি করে ফেলেছে। এর ফলে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতার শুরুতেই ছিটকে পড়েছেন। আর যারা লাইসেন্স পাওয়ার আশায় জমি-জমা বিক্রি বা সঞ্চয় করে চক্রের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন, তারা এখন পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারির আশ্বাসের পরও পর্দার আড়ালের সেই লেনদেন এখনো থামেনি। রাজনৈতিক হাত বদল হলেও দুর্নীতির সেই পুরনো চক্রটিই ঘুরেফিরে সারের ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে নতুন সার লাইসেন্স দেওয়ার নামে যে টাকার খেলা শুরু হয়েছিল, তা ঘুরপাক খেয়ে আবার সেই হতাশা আর শূন্যতার বৃত্তেই এসে থমকে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর এখন আবেদনকারীদের শুধু আশ্বাসই দেওয়া হচ্ছে।"এই জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেতে এবং সারের বাজারে সম্ভাব্য কৃত্রিম সংকট রুখতে অবশেষে রাজপথে নেমেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।"২২শে সেপ্টেম্বর রোজ মঙ্গলবার দুপুর ১২:০০ ঘটিকার সময় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও স্বচ্ছতার দাবিতে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, লাইসেন্স বাণিজ্য বন্ধ না হলে কৃষিনির্ভর এই জেলার পুরো অর্থনীতিই ভেঙে পড়বে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে, মেহেরপুর জেলার সার ডিলার নিয়োগে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই তাদের নিজ দলীয় ব্যক্তিদের তালিকা পাঠিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি মেহেরপুরে "সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নিতিমালা-২০২৬ " এর আলোকে মেহেরপুর জেলায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে প্রতি ইউনিয়নে ও পৌরসভায় ১(এক) জন করে, মেহেরপুর পৌরসভা ১(এক) টি, মেহেরপুর সদর উপজেলার ৭ (সাত) টি ইউনিয়ন কুতুবপুর, বুড়িপোতা, শ্যামপুর, আমঝুপি, আমদহ, পিরোজপুর, বারাদি ও মুজিবনগর উপজেলার ৪(চার) টি ইউনিয়ন দারিয়াপুর, মোনাখালী, বাগোয়ান, মহাজনপুর এবং গাংনী উপজেলার ৯(নয়) টি ইউনিয়ন কাথুলী, তেঁতুলবাড়িয়া, কাজিপুর, বামুন্দী, মটমুড়া, ষোলটাকা, সাহারবাটি, ধানখোলা, রাইপুর ইত্যাদি নিয়ে মেহেরপুর জেলাতে সর্বমোট ২২(বাইশ) টি নতুন সার ডিলার নিয়োগের আহ্বান করা হয়।মানবন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সুস্পষ্ট, যাচাই যোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত। বাছাই কমিটিতে আবেদনকারী সার ডিলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। যোগ্যতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত প্রকাশ করা সহ অযোগ্য আবেদনকারীদের বাতিলের কারণ প্রকাশ করা। যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত ডিলারের সংখ্যার তুলনায় অধিক হলে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা। সঠিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা ন্যায্য সুযোগ পাবেন না। বক্তারা আরো বলেন, সার ডিলার নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং কোন রাজনৈতিক বা প্রভাবশালীদের পরিচয়ের ভিত্তিতে বিশেষ সুবিধা না দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। উক্ত মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে নেতৃত্ব দেন শামসুল খান এবং উপস্থিত ছিলেন সোহেল রানা, আজমাইল হোসাইন, আবুল কালাম, নুর রহমান, তৌফিকুল ইসলাম, মোঃ সাজেদুর রহমান সহ অনেকে।মানবন্ধন কর্মসূচি শেষে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা প্রদানের সময়কালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে বলে কতৃপক্ষ জানান। উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক ঘুষের বৃত্তে মেহেরপুরের সার লাইসেন্স: সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, অনিয়মের প্রতিবাদে স্বারকলিপি প্রদান।