জামায়াত জোট থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে এনসিপি?
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লং মার্চে অংশ নিচ্ছেন না জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার (৩১শে অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতাকে দেখা যায় নি।এনসিপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়াগামী লং মার্চে নাহিদ ইসলাম উপস্থিত থাকবেন না। তবে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি।গত ২৭শে অক্টোবর রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৩১ অক্টোবরের লং মার্চের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে ব্রিফিং করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এর আগে জোটের প্রায় সব কর্মসূচির পর গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলামকে দেখা গেলেও এবার তাঁকে ব্রিফিং করতে দেখা যায়নি।এদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল হান্নান মাসুদ এবং আরিফুল ইসলাম আদীবের লং মার্চে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে উদ্বোধনী সমাবেশ ও গাড়িবহর যাত্রা শুরুর সময় পর্যন্ত তাঁদের উপস্থিতি মেলে নি।ইতোমধ্যে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের উদ্বোধনী সমাবেশ শেষ করে খুলনার উদ্দেশে লং মার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।লং মার্চের আগের দিন এনসিপির নিজস্ব কর্মসূচিশুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে চার দফা দাবিতে গণবিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।সমাবেশে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, 'সরকারি ও বিরোধী দলের প্রার্থীদের একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ানোর ঘটনা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে জনগণকে একটি বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এনসিপির প্রয়োজনীয়তা এবং একটি আপসহীন ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দলের প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনা আরও স্পষ্ট করেছে।'তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে এনসিপির বিকল্প নেই।এনসিপির ওই গণবিক্ষোভে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতাবিরোধী আইন বাতিল এবং জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা।জামায়াত জোট ছাড়ার আলোচনা, কী বলছেন রাশেদ খান?লং মার্চের পুর্বের দিন এনসিপির পৃথক কর্মসূচির পর দলটির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপিকে জামায়াতের সঙ্গে জোট ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানান।তিনি বলেন, এনসিপির কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর ধারণা হয়েছে, এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও দলটি শিগগিরই জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তিনি বিষয়টিকে ‘পিসফুল ডিভোর্স’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।রাশেদ খান আরও দাবি করেন, এনসিপির শুক্রবারের গণবিক্ষোভে ৩১ অক্টোবরের লং মার্চের পক্ষে তেমন বক্তব্য শোনা যায়নি। তাঁর মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর এনসিপির কর্মসূচিতে জনসমাগম কমে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের গণবিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিকে তিনি দলটির স্বতন্ত্র রাজনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।তিনি আরও মন্তব্য করেন, এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।তবে দলটির সংসদ সদস্যদের মধ্যে জোটের রাজনীতি ধরে রাখার পক্ষেও একটি অংশ রয়েছে বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।এনসিপি কি জোট থেকে দূরত্ব তৈরি করছে?জামায়াতের সঙ্গে জোটে থেকেও নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে চায় এনসিপি। দলটির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, আগের লং মার্চগুলোতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও এবার দলটির অংশগ্রহণ সীমিত বা প্রতীকী হতে পারে।তবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, শাহবাগে নিজস্ব কর্মসূচি আয়োজনের সঙ্গে ১১ দলীয় লং মার্চের কোনো বিরোধ নেই। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং মহানগর পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টিও এ কর্মসূচির পেছনে রয়েছে।