মেট্রোরেলের কাজের চাপে বিপর্যস্ত যাতায়াত, ভোগান্তিতে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর রামপুরা-বাড্ডা-প্রগতি সরণি সড়কে মেট্রোরেল নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়িতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্বাভাবিক সময়ে ২৫ থেকে ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে এখন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। এতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।মেট্রোরেল নির্মাণের কারণে প্রগতি সরণির বিভিন্ন অংশে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও রাস্তা কেটে নির্মাণকাজ চলছে, কোথাও চলছে পানির পাইপলাইন ও গ্যাসলাইনের কাজ। বিশেষ করে রামপুরা ব্রিজ, মধ্যবাড্ডা, বাড্ডা ইউলুপ ও প্রগতি সরণি এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।২৯ অক্টোবর থেকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনের অংশ থেকে জামান ফিলিং স্টেশন পর্যন্তসহ প্রগতি সরণির কয়েকটি স্থানে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। বাড্ডা থানা ক্যাম্প ও মেরুল বাড্ডা ফিলিং স্টেশনের সামনেও কাজ চলছে। এতে রামপুরা থেকে বাড্ডা এবং বিপরীতমুখী যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।এদিকে যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেকের সকাল ৮টায় ক্লাস ও ল্যাব থাকায় নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ মিনিটের উপস্থিতি-সংক্রান্ত নিয়মের কারণে যানজটে আটকে দেরিতে পৌঁছালেও উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরা চাইলেও নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারছেন না।অন্যদিকে বাড্ডা ইউলুপসংলগ্ন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন একই ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার দ্বীপ বলেন, “সেই সিলেট থেকে প্রতি সপ্তাহে ক্লাস করতে ঢাকায় আসি। রাস্তা সংস্কার ও মেট্রোরেল স্থাপনের নামে যেই ভোগান্তি হচ্ছে, রাস্তা ছোট করে একাধিক সময় আমাদের পথে কাটিয়ে দিতে হচ্ছে। যার ফলে নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছি না।”কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, বাড্ডা ইউলুপে একবার বাস উঠলে সহজে নামতে চায় না। ফলে রামপুরা ব্রিজ এলাকাতেই অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলা ভালো কথা, কিন্তু এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন যাদের ক্লাস করতে হয়, তাদের ভোগান্তি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি? যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর আবার ক্লাস, ল্যাব ও উপস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। দিনের বড় একটি সময় রাস্তায় কাটানোর পর বাসায় ফিরে পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্টের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময়ও থাকছে না। পড়াশোনার পাশাপাশি যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাদের ভোগান্তি আরও বেশি।তবে এই সড়কে যানজটের সমস্যা নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে রামপুরা-বাড্ডা সড়কে চলাচল করা মানুষের কাছে যানজট নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা। মেট্রোরেল নির্মাণের পাশাপাশি কখনো পানির লাইন, কখনো গ্যাসলাইন, আবার কখনো সড়ক সংস্কারের নামে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ফলে একই সড়কে বারবার নির্মাণকাজ ও যান চলাচলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে এসব কাজ পরিকল্পিতভাবে করা সম্ভব নয় কি? নির্মাণকাজ চলাকালে বিকল্প সড়ক, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?মেট্রোরেল নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি যোগাযোগ প্রকল্প। তবে উন্নয়নকাজের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, কর্মজীবীদের কর্মঘণ্টা ও সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়ে যানজট কমানো এবং নির্মাণকাজের সময়সীমা ও অগ্রগতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।