বিপ্লবী বার্তা

গাজীপুরের সমতলেই সফল চা চাষ, সপ্তাহে উৎপাদন ৩৫ কেজি

জেলার উপজেলায় সমতল ভূমিতে চা চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। যেখানে দেশের চা চাষ সাধারণত সিলেট বা পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালে সীমাবদ্ধ, সেখানে কাপাসিয়ার সমতল জমিতে তাঁর এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের চিনাডুলি গ্রামে প্রায় দুই হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চারটি ভিন্ন প্লটে চা বাগান গড়ে তোলেন তিনি। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয় ‘কাপাসিয়া চা বাগান’। মূল লক্ষ্য ছিল এ অঞ্চলের মাটি চা চাষের জন্য কতটা উপযোগী, তা যাচাই করা।বর্তমানে বাগান থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩৫ কেজি গ্রিন টি উৎপাদন হচ্ছে। বাগানের তাজা পাতা দিয়ে হাতে তৈরি (হ্যান্ডমেড) গ্রিন টি প্রস্তুত করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ব্র্যান্ডিং শুরু হয়নি, তবে উৎপাদন বাড়লে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগান দেখতে আসছেন। অনেক তরুণ নতুন করে চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।অধ্যাপক লুৎফর রহমানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি প্রায় ৩৫ বছর দেশের বিভিন্ন চা বাগানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কর্মজীবনে তিনি দেশের বৃহত্তম মালনীছড়া চা বাগানেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) অধ্যাপনা করছেন।কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আউলিয়া খাতুন জানান, ‘চিনাডুলি গ্রামের এই চা বাগান পরিদর্শন করেছি। কাপাসিয়ার মাটির গঠন চা চাষের জন্য উপযোগী এটি তিনি সফলভাবে প্রমাণ করেছেন।’সমতল ভূমিতে চা চাষের এই সফলতা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গাজীপুরের সমতলেই সফল চা চাষ, সপ্তাহে উৎপাদন ৩৫ কেজি