বিপ্লবী বার্তা

জাবিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে জায়গা দিতে ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে জায়গা দিতে মওলানা ভাসানী হলের আওতাধীন বটতলার একজন ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদচেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ থাকলেও নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাদের দোকান ছাড়তে বাধ্য করার জন্য নানাভাবে মানসিক চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।​বটতলার ১৪ নম্বর দোকানের মালিক মো. রকি খানের অভিযোগ, ক্যাম্পাসভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘Your Campus’ এর ‘Your Shop’ প্রজেক্টের জন্য হল প্রশাসন তার দোকানটি কেড়ে নিতে চাইছে।রকি জানান, দোকানটি চালুর সময় তার প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আগের মালিককে ১০ লাখ টাকা এবং তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাদের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছিল। বাকি টাকা আসবাবপত্রসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হয়।​দোকান মালিকের অভিযোগ, গত বছরের ২৪ আগস্ট থেকে তাকে হয়রানি করা শুরু হয়। প্রথমে জুস-চায়ের বদলে হোটেল ব্যবসা করতে তাকে বাধ্য করা হয়। তাতে রাজি হওয়ার পর, খাবারে মাছি বা তেলাপোকা পাওয়ার মতো ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে দোকান বন্ধ করে দেওয়া এবং বরাদ্দ বাতিলের নোটিশ দেয় প্রশাসন।উচ্ছেদের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৬ আগস্ট তাকে ১৫ নম্বর দোকানের (কাদের ভাইয়ের দোকান) অর্ধেক জায়গায় ব্যবসা করার নোটিশ দেওয়া হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়াও তাকে ভাঙারির দরে নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে দোকান ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তাকে ১৬ নম্বর দোকানের (সিয়াম হোটেল) পেছনে দক্ষিণ পাশে অপরিষ্কার ও সংকীর্ণ জায়গায় দোকান স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দিয়েছে হল প্রশাসন।​বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে রকি খান বলেন, “আমার দোকানের ভাড়া এবং কারেন্ট বিল সম্পূর্ণ ক্লিয়ার। এরপরও আমার সাথে একতরফা জোর-জুলুম চলছে। আমার পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। প্রশাসন চাইলে জায়গা নিয়ে নিতে পারে, কিন্তু তারা তো আমার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। দোকানটি চালু করতে আমার প্রায় ১৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, এখন আমাকে ভাঙাড়ির দাম ধরিয়ে দিতে চায়। আমি কোনো অন্যায় করিনি। অনেক আকুতি-মিনতি করেছি, কিন্তু তারা আমাকে কোনোভাবেই ব্যবসা করতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়েই আমি আজ মুখ খুলেছি।”​এ বিষয়ে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘Your Campus’ এর অপারেশনস ম্যানেজার নাজমুল হুদা বলেন, “আমরা জাবির বটতলায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুপারশপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। আমাদের সাধারণত ৩৫০ থেকে ৯০০ স্কয়ার ফিট জায়গা লাগে। আমরা বেশ কয়েকটি দোকান দেখেছি এবং মওলানা ভাসানী হল প্রশাসনকে জানিয়েছি, কোনো দোকান ফাঁকা থাকলে আমাদের দিতে। চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাউকে জোর করে উচ্ছেদ করে জায়গা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনের এখতিয়ার, এখানে আমাদের কিছু করার নেই।”এ অভিযোগে​র বিষয়ে মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, “বটতলার দোকানগুলো শিক্ষার্থীদের সুলভ মূল্যে মানসম্মত খাবার সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৪ নম্বর দোকানের মালিক দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত। তাকে চায়ের বদলে ভাতের দোকান করতে বলা হলেও তিনি ঠিকমতো তা পরিচালনা করেন নি। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে ‘Your Campus’ এর সুপারশপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে অন্য একটি জায়গায় দোকান স্থানান্তর করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং তার বিনিয়োগের যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ ‘Your Campus’ প্রদান করবে বলে কথা হয়েছে।”​তিনি আরও বলেন, “দোকান বরাদ্দের চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে হল কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় বরাদ্দ বাতিল করতে পারে। শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

জাবিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে জায়গা দিতে ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ