চবিতে ছিনতাই, মারধর ও নারী হেনস্থার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থী আটক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়, ছিনতাই, মারধর ও নারী হেনস্থাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।আটক দুই শিক্ষার্থী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. শিমুল ফকির এবং একই শিক্ষাবর্ষের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ফাহিম আহমেদ অপি।আটকের পর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া হয়।অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরনা এলাকায় ঘুরতে যান কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, হাটহাজারীর শিক্ষার্থী মো. আসহাব উদ্দিন। তার অভিযোগ, সেখানে শিমুল ফকির ও তার দুই সহযোগী তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ১৫০ টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ১ হাজার ২০ টাকা নেন।পরে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। অন্য একটি অভিযোগে বাগেরহাট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ শিমুল ফকিরের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ, ছিনতাই ও হেনস্থার অভিযোগ করেন।এদিকে চবি ল্যাব কলেজের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের পূর্ব পাশের ব্রিজ এলাকায় শিমুল ফকির ও ফাহিম আহমেদ অপি তাকে ডেকে মারধর করেন। এ সময় তার চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। পরে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের হুমকি দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তার পকেট থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।শিমুল ফকিরের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে শিমুল বলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে ১৫ আগস্ট, মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট করতেন। এসব পোস্ট চবি ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের নজরে এলে তিনি শিমুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত কি না জানতে চান।শিমুল বলেন, ‘ভালোলাগা থেকে এসব পোস্ট করেছি।’ ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়েছে বলেও জানান তিনি।অভিযুক্তদের আটকের সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক রাব্বি তাওহিদ, নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান ও আদনান শরীফ।রাব্বি তাওহিদ বলেন, এক বহিরাগত দর্শনার্থীকে দুই শিক্ষার্থী ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগের পর তারা ভুক্তভোগীর কাছে যান। তার কাছে থাকা ছবি দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হয়।তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বহিরাগত দর্শনার্থীদের আটকে হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়া, মারধর, চোখে আঘাত করা, ফোন কেড়ে নেওয়া ও ফোন চেক করা। এছাড়া বহিরাগত কাপলদের বিভিন্ন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।’রাব্বি তাওহিদ আরও বলেন, নিজ বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধরে মারধর করে আহত করার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ফোন চেক করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে বলেও দাবি করেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর খায়রুল ইসলাম (সুজন) বলেন, এক পর্যটক বিকেলে চবি ঝরনায় ঘুরতে গেলে তার ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নগদ ১৫০ টাকা এবং বিকাশে ১ হাজার ২০ টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।তিনি বলেন, ‘পরে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করলে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে দেওয়া হয়।’