বিপ্লবী বার্তা

সরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রতিবেদনে ইবিতে বিক্ষোভ

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরবর্তীতে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের 'অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন' ভাইভা প্রথার বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন, 'ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে', 'তদবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন', 'মামা খালুর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন' 'মামা খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না' 'মামার নামে বাণিজ্য, চলবে চলবে না,' আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,' 'জেগেছে রে জেগেছে, ইবিয়ানরা জেগেছে,' 'সারা বাংলায় খবর দে, ভাইবা মার্কের খবর দে,' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।এসময় টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম বলেন, "সরকার নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত নম্বর কমিয়ে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধি করেছে। এর মাধ্যমে তারা মূলত স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং দলীয় নিয়োগ দিতে চায়। শীঘ্রই এই আইন বাতিল করে শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার হুঁশিয়ার দেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নাহিদ হাসান বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু উদ্ভট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমে এনটিআরসি কমিটির অধীনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শিক্ষার্থীদের গণআন্দোলনের মুখে তা প্রত্যাহার করতে হয়েছে। গতকাল ড. জাহেদুর রহমানের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে মেধাবীদের বাদ দিয়ে দলীয় ক্যাডার ও অর্থের প্রভাবশালীদের চাকরি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চব্বিশের আন্দোলনের পর এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই অনতিবিলম্বে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসগুলোতে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, "এই ছাত্র জনতার কোনো দল বা নির্দিষ্ট মত নেই তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়তে অভ্যস্ত। চব্বিশের আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র জনতা যে শিক্ষা দিয়েছে, আমরা আশা করি বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো আইন পাস করবে না। আমরা সরকারের বিরোধী নই; শিক্ষার্থীরা সরকারের শক্তি ও সহযোগী। যে সরকার শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারবে, তারাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে। আমরা চাই না অর্থের প্রভাবে মেধাবীরা বঞ্চিত হোক। উচ্চশিক্ষায় পরিবারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও চাকরিতে ঘুষ বা অনিয়মের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন বেকার বা অন্য পেশায় যেতে বাধ্য না হয়, সেটিই আমাদের দাবি। আমরা ভাইভাকে পরীক্ষা হিসেবে মানি, কিন্তু ভাইভার নামে যে কালোবাজারি হয়, তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। "

সরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রতিবেদনে ইবিতে বিক্ষোভ