বিপ্লবী বার্তা

লোকজ ঐতিহ্যে বর্ষবিদায়ে জাবিতে ‘ব্যাঙের পানচিনি’ অনুষ্ঠিত

প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি আর চৈত্রের তপ্ত দহন থেকে মুক্তি পেতে একপশলা বৃষ্টির আকুল প্রার্থনা এবং গ্রামীণ লোকসংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী উৎসব—‘ব্যাঙের পানচিনি’। সোমবার (১৩ এপ্রিল) চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদ এই বর্ণিল ও হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন প্রাঙ্গণে লোকজ রীতি মেনে আয়োজন করা হয় এই ‘পানচিনি’ বা আশীর্বাদ অনুষ্ঠান। তবে এই আয়োজন কোনো মানুষের জন্য নয়, বরং দুটি প্রতীকী ব্যাঙের জন্য। বাঁশ ও রঙিন কাগজ দিয়ে তৈরি বর ব্যাঙের নাম রাখা হয় ‘স্বপনপরী’ আর কনের নাম ‘ফুলপরী’।এই আনন্দঘন আয়োজনে বরের বাবার ভূমিকা পালন করেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং কনের বাবা সাজেন চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীম রেজা। বরপক্ষ (নতুন কলাভবন) মিছিল নিয়ে কনেপক্ষের (পুরাতন কলাভবন) বাড়িতে পৌঁছালে গেট ধরা নিয়ে চলে মজার দর-কষাকষি। এরপর রীতি অনুযায়ী মিষ্টিমুখ ও আশীর্বাদ শেষে পুরোহিত সেজে ব্যাঙের বিয়ে পড়ান নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী প্রজয় বকসী।আয়োজন প্রসঙ্গে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগি সামিয়া বলেন, “আগে বৃষ্টির আশায় গ্রামের মানুষ ব্যাঙের বিয়ে দিত। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে স্মরণ করতেই আমাদের এই আয়োজন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন কলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।”কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “ব্যাঙ প্রকৃতির প্রতীক। প্রকৃতি ভালো থাকলে মানুষও ভালো থাকবে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির প্রতি মানুষের সংবেদনশীল হওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।”চৈত্রের বিদায়লগ্নে এমন লোকজ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ভিন্নধর্মী প্রাণের স্পন্দন তৈরি করে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ জাগিয়েছে।

লোকজ ঐতিহ্যে বর্ষবিদায়ে জাবিতে ‘ব্যাঙের পানচিনি’ অনুষ্ঠিত