বিপ্লবী বার্তা

পরিবর্তিত বাংলাদেশে রাজনীতির পরিবর্তনটা কোথায়?

দীর্ঘদিন দেশে সুশাসনের অভাব ছিল। সেই সুশাসনের অভাব থেকেই ৫ আগস্টের মতো গণঅভ্যুত্থান ঘটলো। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এলো। দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি সহ সমাজের প্রতিটি সেক্টরে দীর্ঘদিন ধরে যে অন্যায়, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলমান ছিল, সেখান থেকে বের হতে অনেক সময় লাগবে।সম্প্রতি খেলাপি ঋণে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম হয়েছে। এটি অস্বাভাবিক ছিল না। বিগত সময়গুলোতে যেভাবে ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং সেই টাকা পাচার হয়েছে, তাতে এটি অবধারিত ছিল। বরঞ্চ তথ্য প্রদানের প্রক্রিয়াটি একেবারে নিয়ন্ত্রিত থাকায় এটি প্রকাশ করা হয়নি। এখন তথ্য সরবরাহের প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়ায় এটি প্রকাশিত হচ্ছে। অন্যথায় বাংলাদেশ আরও অনেক আগেই বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষস্থানীয় হতো।ঋণ খেলাপি হতে দীর্ঘ সময় লাগে। ছয় মাস, এক বছর কিংবা দুই বছরেও সাধারণভাবে ঋণ খেলাপি হওয়া যায় না। কেননা, ঋণ প্রদান থেকে শুরু করে খেলাপি হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এই ঋণগুলো বেশিরভাগই শিল্প-কারখানা কিংবা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের দেওয়া হয় এবং এগুলো দীর্ঘমেয়াদি হয়।শুধু ব্যাংকিং সেক্টর নয়, প্রতিটি সেক্টরেই যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে শৃঙ্খলায় আনতে একটি ভালো সময় লাগবে। সেই সময়টি একটি নির্বাচিত সরকারকে দিতে হবে। দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। সুতরাং এই সরকারকে সময় দিতে হবে, যৌক্তিক সময় দিতে হবে, পরামর্শ দিতে হবে এবং তাদের ভুলের সমালোচনা করতে হবে। সেটি না করে শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা, রাজনীতির জন্য সমালোচনা করলে দেশের জন্য কোনো ভালো কিছু বয়ে আনবে না।এখন বাংলাদেশে একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা দরকার। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের জন্য এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার। দেশের ভাবমূর্তি এমনিতেই ভঙ্গুর। সেই ভঙ্গুর ভাবমূর্তি ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সাজাতে হলে সুশাসনের দিকে যেমন নজর দিতে হবে, ঠিক তেমনি একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট অত্যন্ত প্রকট। লোডশেডিংয়ে জনজীবনের দুর্ভোগ বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটছে। এটি পূর্বের ভুল জ্বালানি নীতির কারণে হচ্ছে। একইভাবে রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকারকে এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন করতে হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নয়ন চোখে পড়ছে না। রাতারাতি এটি সম্ভব নয়। কেননা, বিগত সময়ে যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সর্বত্র নিয়োগ হয়েছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এত সহজ নয়। ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের এত অল্প সময়ে নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব নয়। সুতরাং জবাবদিহিতার পরিবেশে বেশি মনোযোগী হতে হবে।এ দেশটা আমাদের সবার। দেশের ভালো-মন্দের দায়িত্ব আমাদের সবার। রাজনীতির একটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকা উচিত। সবকিছুতেই রাজনীতি নিয়ে এসে আমরা আমাদের সমাজটাকে অত্যন্ত কলুষিত করে ফেলেছি। এর পরিবর্তনের পথটাও রাজনীতিকদের থেকেই আসতে হবে।তবে যা কিছুই হোক না কেন, এই মুহূর্তে দেশে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। যদি আমরা দেশকে স্থিতিশীল রাখতে না পারি, তবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ খুব অন্ধকারময় হবে সেটি এখনই বলে দেওয়া যায়। সুতরাং দলমত নির্বিশেষে স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদেরকে সময় দিতে হবে এবং নির্মোহভাবে কাজ করতে হবে।লেখক : ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদঅধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পরিবর্তিত বাংলাদেশে রাজনীতির পরিবর্তনটা কোথায়?