বাগেরহাটে কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ, চেক ও চারা বিতরণ
দরিদ্র
ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কিশোরীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা, সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বাগেরহাটে কিশোরী ও তাদের অভিভাবকদের
নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ
অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ১২
জন কিশোরীর মাঝে ৩ লাখ ২৭
হাজার ৬০০ টাকার চেক এবং ৭৪ জনের মধ্যে
ব্যাগ ও ৭৪টি ফলজ
গাছের চারা বিতরণ করা হয়।বৃহস্পতিবার
(১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প (ইরেসপো) দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন
করা হয়। অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথি ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বিথী। উপস্থিত ছিলেন কাড়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, বাগেরহাট বিআরডিবির উপপরিচালক মোহাঃ দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শামসুর রহমান, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে
সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনেয়ারা খাতুন। বাগেরহাট
বিআরডিবির উপপরিচালক মোহাঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের মূল
উদ্দেশ্য হচ্ছে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের
আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। প্রত্যন্ত পল্লি এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও বেকার মানুষদের
সংগঠিত করে তাদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা হয়। তারা নিয়মিত সঞ্চয় জমা দেন এবং সেই অর্থ ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়। সঞ্চয়ের বিপরীতে যে মুনাফা অর্জিত
হয়, তা তাদের মধ্যে
প্রদান করা হয়। কিশোরীদের নিয়েও প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাগেরহাট
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বিথী বলেন, সন্তানদের প্রতি প্রত্যেক বাবা-মাকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তাদের পড়াশোনার প্রতি নজর দিতে হবে এবং ভালোভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। বিআরডিবির এ ধরনের কার্যক্রমের
মাধ্যমে আমরা যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে
সচেতনতা তৈরি করতে পারছি।বাগেরহাট
জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, সরকারের অর্থ এ ধরনের প্রকল্পে
বিনিয়োগের ফলে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের
কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। একই সঙ্গে তাদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠছে এবং পড়াশোনার পাশাপাশি ১৮ বছরের আগে
বিয়ে না করার বিষয়ে
তারা সচেতন হচ্ছে। প্রতিমাসে কিশোরীদের পক্ষ থেকে ২০০ টাকা সঞ্চয় করলে সরকারও ৪০০ টাকা করে সহায়তা দিচ্ছে। ফলে তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৬০০ টাকা। তিনি
আরও বলেন,সঞ্চয় মানুষের জীবনে বিপদের সময় সবচেয়ে বেশি কাজে আসে। তাই প্রত্যেক মানুষেরই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি
কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। বিআরডিবির এ উদ্যোগও অত্যন্ত
ভালো। এ কার্যক্রম আরও
ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং অভিভাবকরাও এতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন বলে আশা করি।আয়োজকরা
জানান, দরিদ্র পরিবারের কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
তৈরির লক্ষ্যে ২০২১ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প পরিচালক মোঃ রাশেদুল আলমের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর কার্যক্রম পরিচালিত
হচ্ছে।বিআরডিবি
সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে এ কার্যক্রম চালু
রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- নোয়াপাড়া ইয়াকুব আলী আদর্শ হাইস্কুল ও কাড়াপাড়া মাধ্যমিক
বালিকা বিদ্যালয়। পর্যায়ক্রমে বাগেরহাটের প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের
পরিকল্পনা রয়েছে।