বিপ্লবী বার্তা

টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জে অকাল বন্যার শঙ্কা, বিপাকে হাওরের কৃষক

সুনামগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে একের পর এক হাওর তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত চোখের সামনে পানির নিচে চলে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা থাকলেও প্রকৃতির এই নির্মম আচরণে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নিচু জমির পাকা ও আধাপাকা ধান ইতোমধ্যে পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। যেখানে কয়েকদিন আগেও ধানের সোনালি আভা ছিল, সেখানে এখন কেবল থৈ থৈ পানি। অনেক কৃষক বুক সমান পানিতে ডুব দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, তারা মাত্র ২০ শতাংশ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন, বাকি ৮০ শতাংশ ফসলই এখন পানির নিচে।বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকরা চারমুখী সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। টানা বৃষ্টির কারণে কর্দমাক্ত জমিতে ধান কাটার মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার) চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগের বছরগুলোতে সহজলভ্য হলেও এবার শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যারা পাওয়া যাচ্ছে, তারা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মজুরি দাবি করছেন। কোনোমতে কিছু ধান কাটতে পারলেও রোদের অভাবে তা শুকাতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।সুনামগঞ্জের অর্থনীতি মূলত ধান ও মাছের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্যসম্পদে এখনো বড় ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও প্রধান ফসল বোরো ধান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। এই ফসলই ছিল তাদের সারা বছরের জীবিকা ও কৃষি ঋণ পরিশোধের একমাত্র অবলম্বন।কৃষকরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণ করে সরকারের কাছে জরুরি প্রণোদনা এবং ভবিষ্যতে ফসল রক্ষায় আরও টেকসই হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন, "সব শেষ হয়ে গেল। এই ধান দিয়েই ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। এখন পরিবার নিয়ে কী খেয়ে বাঁচব জানি না।" হতাশায় ভেঙে পড়া এক স্থানীয় কৃষক।

টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জে অকাল বন্যার শঙ্কা, বিপাকে হাওরের কৃষক