বদলি হজ করবেন যেভাবে
কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর সক্ষমতা থাকার পরও যদি তিনি তা আদায়ে বিলম্ব করেন এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে অসুস্থ বা অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানোর নিয়ম রয়েছে। ইসলামি শরিয়তে একে ‘বদলি হজ’ বলা হয়। বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিকভাবে পুরোপুরি অক্ষম, দীর্ঘমেয়াদী বা আমৃত্যু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই হজ পালন করা যায়।ইসলামে বদলি হজের পূর্ণ অনুমোদন ও সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-ইমরানে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করা আবশ্যক। তবে কোনো ব্যক্তি যদি চিরতরে শারীরিক সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেন, তবে তার জন্য প্রতিনিধি বা বদলি হজকারী নিয়োগের বিধান দিয়েছেন ওলামায়ে কেরাম।বদলি হজের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে:যিনি ইতিমধ্যে নিজের ফরজ হজ সম্পন্ন করেছেন, এমন ব্যক্তিকেই বদলি হজে পাঠানো সবচেয়ে উত্তম।অনুত্তম পদ্ধতি: যে ব্যক্তি এখনো নিজের হজ নিজে করেননি, তাকে অন্যের বদলি হজে পাঠানো মাকরুহে তানজিহি বা অনুত্তম।অনুত্তম হওয়া সত্ত্বেও নিজের হজ না করা কোনো ব্যক্তি যদি বদলি হজে যান, তবে যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে তার বদলি হজ আদায় হয়ে যাবে। তবুও সতর্কতাবশত এমন মানুষকে পাঠানোই উচিত, যিনি অন্তত একবার নিজের হজ সম্পন্ন করেছেন।বদলি হজের সামগ্রিক পদ্ধতি সাধারণ হজের মতোই। যে নিয়মে ও পদ্ধতিতে ফরজ হজ আদায় করা হয়, বদলি হজের ক্ষেত্রেও হুবহু সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হয়। তবে মূল পার্থক্যটি হয় নিয়তের ক্ষেত্রে:১. ইহরামের সময় নিয়ত: ইহরাম বাঁধার সময় মনে মনে বা মুখে স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে যে, এই হজটি কার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।২. মৌখিকভাবে নিয়ত করা: মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা উত্তম। যেমন নিয়তের সময় বলতে হবে "আমি আমার ফুফু (বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম) এর পক্ষ থেকে হজের ইহরাম করছি।"৩. তামাত্তু হজের ক্ষেত্রে: কেউ যদি তামাত্তু হজ (একই সফরে প্রথমে ওমরাহ ও পরে হজ) করার ইচ্ছা করেন, তবে প্রথমে ওমরাহর ইহরাম ও নিয়ত করার সময়ও একইভাবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে নিয়ত করতে হবে।বদলি হজকারীর জন্য হজের পুরো অর্থ একটি পবিত্র আমানত। তাই খরচের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে:যাতায়াত, থাকা খাওয়া এবং হজের আনুমানিক খরচ যেন ইনসাফের সাথে ও পরিমিতভাবে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।কোনো ধরনের অপচয় বা অপ্রয়োজনীয় খরচ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।হজ সফর শেষ হওয়ার পর যদি টাকা উদ্বৃত্ত বা বাকি থাকে, তবে তা মূল মালিক বা হজে প্রেরণকারীর কাছে ফেরত দেওয়া জরুরি। তবে হজে প্রেরণকারী ব্যক্তি যদি খুশি হয়ে সেই উদ্বৃত্ত টাকা বদলি হজকারীকে হাদিয়া (উপহার) হিসেবে দিয়ে দেন, তবেই কেবল তিনি তা নিজের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন।