নরসিংদীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
নারীদের ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা ডিবি পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শহরের সাহেপ্রতাপ ও রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:১. শারমিন আক্তার ওরফে বৃষ্টি (২৪), পলাশ উপজেলার জিনারদী এলাকার বাসিন্দা।২. স্মৃতি আক্তার (২০), নরসিংদী সদরের হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা।৩. মো. কাইয়ুম (২৫), উত্তর বাগহাটা গ্রামের বাসিন্দা।৪. ফয়সাল মিয়া (৩৪), খাটেহারা গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলত। এরপর দেখা করার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ভুক্তভোগীকে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন করত। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বিবস্ত্র করে নারী সদস্যদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত এই চক্র। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেওয়া হতো হত্যার হুমকি।অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল মিয়ার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ফয়সাল ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত স্মৃতি আক্তারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে ফয়সাল মিয়ার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, মাদক ও চুরিসহ নরসিংদী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এরশাদ উল্লাহ জানান, সম্প্রতি শহরের নাগরিয়াকান্দা এলাকায় এক যুবক এই চক্রের শিকার হন। বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুকের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।