বিপ্লবী বার্তা

পোশাক শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি পুনর্বিন্যাসের দাবি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতির

যেভাবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে, তাতে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসহ সব খাতের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে নূন্যতম মজুরি অবিলম্বে পুনঃনির্ধারণ ও নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করতে হবে।[TECHTARANGA-POST:7570]শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পিরোজপুর শহরের করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পিরোজপুর জেলা শাখা আয়োজিত এক দায়িত্বশীল সমাবেশ-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। দেশের শ্রমজীবী মানুষ বর্তমানে চরম বৈষম্য ও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব বাজারে পড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবনযাপন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান তিনি আরও বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষ বর্তমানে চরম বৈষম্য ও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এবং তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব বাজারে পড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবনযাপন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'নানা অজুহাতে বিভিন্ন মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত সাত মাসে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, কোনো ধরনের অন্যায্য শ্রমিক ছাঁটাই মেনে নেওয়া হবে না। অন্যায় হবে যেখানে, প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে সেখানে; শ্রমিকের সমস্যা যেখানে, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন থাকবে সেখানে।'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি দাবি করেন, ঐতিহাসিক এই আন্দোলনে অন্তত ৩০০ জন শ্রমিক শাহাদাতবরণ করেছেন। দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে রাজপথে ভূমিকা রাখা এসব মেহনতি মানুষ আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা কিংবা অবহেলার কারণে যেন আর কোনো শ্রমিককে কর্মক্ষেত্রে অকালে প্রাণ দিতে না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।আতিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়ন ভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হলেও শ্রমিক শ্রেণির প্রত্যাশিত ভাগ্যোন্নয়ন কখনোই হয় নি। বর্তমান প্রচলিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্টের স্থায়ী সমাধান অসম্ভব। কেবল 'ইসলামী শ্রমনীতি' বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মালিক ও শ্রমিকের পারস্পরিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করা সম্ভব এবং এতেই শ্রমিকের প্রকৃত মুক্তি নিহিত।দেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান ও শ্রমিকদের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লাখ তৈরি পোশাক শ্রমিক দিনরাত পরিশ্রম করলেও তাদের জীবনমানের কোনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয় নি। অন্যদিকে মালিকদের ব্যবসার পরিধি কেবলই সম্প্রসারিত হচ্ছে। পোশাক শ্রমিকদের সন্তানেরা আজও উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।'বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি খন্দকার ছিদ্দিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহ জামালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ, অঞ্চল সহকারী আব্দুর রব, পিরোজপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা মো. জহিরুল হক ও আব্দুর রাজ্জাক শেখসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পোশাক শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি পুনর্বিন্যাসের দাবি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতির