বিপ্লবী বার্তা

কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের 'পুতুলনাট্য উৎসব' ২৭ ও ২৮ আগস্ট

​পুতুলনাট্য চর্চায় ছয় বছর পূর্ণ করে সপ্তম বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা নাট্যদল ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে দলটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘পুতুলনাট্য উৎসব ২০২৬’।রোববার (২৩ আগস্ট) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য জানান সংগঠনটির সদস্যরা।উৎসবে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার ছাড়াও আমন্ত্রিত আরও চারটি জনপ্রিয় পাপেট দল তাদের পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত থাকবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বরেণ্য পাপেটশিল্পী অধ্যাপক রশীদ হারুনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা উঠবে। উদ্বোধনী পর্বের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পরিবেশিত হবে ইনভেন্টরস পাপেটের ‘ইন্টারেক্টিভ পাপেট’ এবং কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘বনভ্রমণ’।​উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মোট তিনটি অধিবেশনে পুতুলনাট্য মঞ্চস্থ হবে। সকাল ১১টায় যুগ পাপেট থিয়েটারের ‘ইন্টারেক্টিভ পাপেট’ ও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘লিচু চোর’ পরিবেশিত হবে। বিকেল ৫টায় জলপুতুল পাপেটসের ‘চিকেন খাই না’ ও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘নোলক’ এবং সন্ধ্যা ৭টায় ইউনিভার্সেল পাপেটের ‘সবুজ দেশের বিপদ’ ও কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের ‘বীরপুরুষ’ মঞ্চস্থ হবে।​আয়োজকেরা জানান, সপ্তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে মঞ্চে আসা কাকতাড়ুয়ার তিনটি পুতুলনাটক ‘লিচু চোর’ (রচনা: রাসেল ইসলাম), ‘বীরপুরুষ’ (রচনা: শোভন চক্রবর্তী) এবং ‘নোলক’ (রচনা: শরণ এহসান) একই নামের তিনটি বিখ্যাত কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম দিন পরিবেশিত হতে যাওয়া ‘বনভ্রমণ’ (রচনা: শরণ এহসান) পুতুলনাটকটি এর আগে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর শিশুপ্রহরে মঞ্চস্থ হয়েছিল।​সংবাদ সম্মেলনে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, “পুতুলনাটকের মাধ্যমে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি ছাড়াও পরিবেশরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে দীর্ঘদিন যাবত আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উপযুক্ত পরিবেশ ও সহযোগিতা পেলে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার আগামীর পৃথিবী বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আমরা শিশুদেরকে এক কল্পনার জগতে নিয়ে যাব, যেন তাদের মানসপটে নানান ধরনের চিত্র অঙ্কিত হতে পারে। তবে পুতুলনাটক শুধু ছোটদের নয়, বরং সকলের সুস্থ ধারার বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে।”উল্লেখ্য, ​২০১৯ সালে জাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার’। আনন্দমুখর শিশুশিক্ষাকে ধারণ করে সংগঠনটি বর্তমানে জনসচেতনতা, বয়স্ক শিক্ষা, ক্যানসার ও অটিজম আক্রান্তদের জন্য পাপেট থেরাপি, প্যালিয়েটিভ কেয়ার এবং ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য নিয়ে কাজ করছে।

কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের 'পুতুলনাট্য উৎসব' ২৭ ও ২৮ আগস্ট