বিপ্লবী বার্তা

পর্যাপ্ত পানি পানের পরও পানিশূন্যতা? যেভাবে বুঝবেন

তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শরীরকে আর্দ্র (হাইড্রেটেড) রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে সমস্যা হলো, পানিশূন্যতার লক্ষণ সবসময় শুধু তৃষ্ণা হিসেবে প্রকাশ পায় না। অনেকেই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন অনুভব করতে পারেন।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ঘাম এবং শরীর থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের ক্ষয়ের মতো বিষয়গুলো ভেতরের তরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। শরীর যতটুকু তরল গ্রহণ করে, তার চেয়ে বেশি হারালে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এর ফলে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা সত্ত্বেও আপনার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্যানুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পানের পরও শরীর ডিহাইড্রেটেড কি না, তা বোঝার ৫টি প্রধান লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:১. ক্রমাগত ক্লান্তি এবং দুর্বলতাপর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি আপনি ক্রমাগত ক্লান্ত বোধ করেন, তবে তা শরীরে পানির ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। শরীরে তরলের অভাব হলে রক্ত সঞ্চালনের কার্যকারিতা কমে যায়। যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শরীরে পানির পরিমাণ এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য ডিহাইড্রেশনও মানুষের সতর্কতা হ্রাস করে এবং ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।২. ঘন ঘন মাথাব্যথাঘন ঘন মাথাব্যথা হওয়া—বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়, ডিহাইড্রেশনের একটি অন্যতম বড় লক্ষণ। শরীরে পানির ভারসাম্যহীনতা রক্তপ্রবাহকে প্রভাবিত করে এবং মস্তিষ্কে চাপের পরিবর্তন ঘটায়, যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘হার্ভার্ড হেলথ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিহাইড্রেশন মাথাব্যথার একটি অত্যন্ত পরিচিত কারণ। শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এলে সাধারণত এই সমস্যা দূর হয়ে যায়।৩. গাঢ় হলুদ প্রস্রাব বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়াশরীরে পানির সঠিক অনুপাত বোঝার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো প্রস্রাবের রঙ পরীক্ষা করা। যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ বা বেশি ঘন মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীর পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছে অর্থাৎ ভেতরে পানির ঘাটতি আছে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পানির পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হতে শুরু করে।৪. মনোযোগ দিতে সমস্যা ও মানসিক নিস্তেজতাকাজে মনোযোগ দিতে কষ্ট হওয়া বা মানসিকভাবে নিস্তেজ বোধ করাও ডিহাইড্রেশনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মানুষের মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ পানি দিয়ে গঠিত। তাই শরীরে পানির ভারসাম্যের সামান্য পরিবর্তনও মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন’-এর একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিহাইড্রেশন মনোযোগের ক্ষমতা এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।৫. পানি পান করা সত্ত্বেও তৃষ্ণা বা শক্তিহীনতাআপনি যদি সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার পরেও নিজেকে নিস্তেজ বা তৃষ্ণার্ত অনুভব করেন, তবে এর প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে ‘ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা’। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়। বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ উভয়ই কমে যায়। এর অর্থ হলো, তীব্র গরমে শুধুমাত্র সাধারণ পানি পান করে শরীরের তরলের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ না-ও হতে পারে।তীব্র গরমে শুধু সাধারণ পানি পানের পাশাপাশি শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি বা লেবুর শরবত পান করা উচিত।

পর্যাপ্ত পানি পানের পরও পানিশূন্যতা? যেভাবে বুঝবেন