বিপ্লবী বার্তা

হঠাৎ কেন ভারত সফরে মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমবারের মতো চার দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন। আজ শনিবার (২৩ মে) ভোরে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় এসে পৌঁছান। গত ১৪ বছরের মধ্যে এটিই কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম কলকাতা সফর।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চার দিনের এই সফরে রুবিও ভারতের চারটি এলাকা সফর করবেন। সফরের প্রথম দিনে কলকাতায় প্রয়াত মাদার তেরেসার স্মৃতিবিজড়িত ‘মাদার হাউস’ ও মিশন অব চ্যারিটির শিশু ভবন পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর আজই তাঁর নয়াদিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।রুবিওর এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সম্প্রতি চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা বেশ জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মাত্র এক সপ্তাহ পরেই ভারতে এলেন রুবিও।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বর্তমানে ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের এই দেশটি চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য—দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ভারতকে ব্যাপকভাবে বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।সফরে রওনা হওয়ার আগেই ভারতের এই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, "ভারত যে পরিমাণ জ্বালানি কিনতে চাইবে, আমরা তাদের কাছে ততটাই বিক্রি করতে প্রস্তুত। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।"নয়াদিল্লিও এই সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়াতে আগ্রহী হতে পারে। এতে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্যঘাটতি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল বাণিজ্যঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরক্ত করে আসছে। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৮২০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন জ্বালানি আমদানি করা ভারতের জন্য খুব সহজ কোনো সমাধান নয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সমুদ্রপথে ভারতে জ্বালানি পাঠাতে অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়, যার কারণে পরিবহন খরচ ও সামগ্রিক ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যায়। চার দিনের এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কোয়াড ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও রুবিও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

হঠাৎ কেন ভারত সফরে মার্কো রুবিও