বিপ্লবী বার্তা

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি -হুমকির মুখে ঢাকা -ঝালকাঠি নৌপথ

হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে লঞ্চভাড়া বাড়ানোর পর চরম যাত্রী সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী  ঝালকাঠি-ঢাকা  নৌরুট। একদিকে সড়কপথে স্বল্প সময় যোগাযোগ  ও পদ্মা সেতুর সুবিধা, অন্যদিকে দফায় দফায় নৌযান পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝালকাঠি-ঢাকা রুটের নৌ যোগাযোগ এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে।আগে নিয়মিত আগরপুর নেভিগেশনের  ফারহান -৭ এবং সুন্দরবন নেভিগেশনের সুন্দরবন- ১২ দুই প্রান্ত থেকে চলাচল করত।সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রী সেবায়  অনিয়মিত। একদিন পরপর সুন্দরবন ১২ যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছিল। যাত্রীর অভাবে এবং লোকসানের অজুহাত তুলে সেটাও বন্ধের পথে।  যাত্রীর  অভাবে স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই।লোকসানের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে ঝালকাঠি- বরগুনা নৌপথের যাত্রী সেবা কয়েক বছর আগেই।  সব মিলিয়ে তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে  দক্ষিণের সার্বিক অর্থনীতিতে।গত ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে। এর পরপরই ২৩ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় লঞ্চভাড়া ৭.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৌপথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম ১০০ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ৩ টাকা ১৮ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের পরবর্তী দূরত্বের জন্য ২ টাকা ৭২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।অন্যদিকে, সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, লঞ্চের ভাড়া বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য নৌপথ এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। অনেকেই সময় ও খরচ ওঠেনা।ঝালকাঠি লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে, এক সময়ের ব্যস্ততম এই ঘাটে এখন সুনসান নীরবতা। ঘাটে লঞ্চ নোঙর করা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রীর দেখা মিলছে না। ঢাকা-ঝালকাঠি রুটের লঞ্চগুলোর ডেক থেকে শুরু করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কেবিনগুলোও প্রায় ফাঁকা থাকছে।শ্রমিকরা বেকার বলতে গেলে প্রায়।আগে অনেক যাত্রী এবং মালামাল আশায় শ্রমিকদের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। নৌযান শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যাত্রী না থাকায় তাদের ট্রিপ কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনিক আয়ের ওপর। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির বাজারে লঞ্চের আয় কমে যাওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।ঝালকাঠি লঞ্চ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই এই রুটে যাত্রী সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় প্রতি ট্রিপে লঞ্চের জ্বালানি খরচ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে। সরকার যে ভাড়া বৃদ্ধি করেছে, যাত্রী সংকটের কারণে সেই বাড়তি ভাড়ার সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, মূল পরিচালন ব্যয়ই উঠছে না। প্রতি ট্রিপে বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনতে হওয়ায় অনেক মালিক বাধ্য হয়ে এই রুটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখছেন।সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক আকতার হোসেন আকেজ বলেন, ‘ডিজেলের লিটার যখন ৮৪ টাকা তখন জ্বালানিসহ অন্যান্য মিলিয়ে রাউন্ড ট্রিপে আমাদের খরচ হতো আট লাখ টাকা। বর্তমান দামে সেই খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১১ লাখে। এটা জানি যে, সরকার নতুন করে ভাড়া সমন্বয় করবে। কিন্তু তার পরও টিকে থাকতে পারব না।ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী এই নৌ-রুটকে টিকিয়ে রাখতে হলে তেলের দামে ভর্তুকি দেওয়া অথবা যাত্রী আকর্ষণে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় দ্রুতই এই রুটের লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি -হুমকির মুখে ঢাকা -ঝালকাঠি নৌপথ