নবীনগরে এমপি আব্দুল মান্নানের বক্তব্য ঘিরে ক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি সলিমগঞ্জ-বড়িকান্দির বাসিন্দাদের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধীদের কোনো রাজত্ব নেই- এমন বক্তব্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় নিয়ে এমপির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে এলাকার বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই। তাঁদের দাবি, সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ডাকাতি ও অপরাধমূলক তৎপরতার অভিযোগ থাকলেও এসব বন্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।তাঁদের প্রশ্ন, এলাকায় যদি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না-ই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের অভিযোগ কেন শোনা যাচ্ছে?এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু অপরাধী চক্র ও ডাকাত দলের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এমনকি অপরাধী চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশ এবং মাসোহারা লেনদেনের অভিযোগও সামনে এনেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া জরুরি। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন-১. সংসদ সদস্যের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে এলাকার প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে।২. সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি অঞ্চলে চাঁদাবাজ, ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।৩. প্রশাসনের কোনো সদস্য অপরাধীদের সহযোগিতা বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।৪. জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগের জবাব দিতে হবে এবং সংসদ সদস্যের পদত্যাগের দাবি বিবেচনায় নিতে হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জনপ্রতিনিধির বক্তব্যের চেয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অভিযোগকে অস্বীকার না করে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জনগণের প্রশ্ন একটাই- এলাকায় যদি কোনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না-ই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এত অভিযোগ কেন?