বিপ্লবী বার্তা

ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন মহান আল্লাহ তাআলা

মানবজীবনে উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখ এবং বিপদ-আপদ আসবেই; এটি মহান আল্লাহর এক চিরন্তন নিয়ম। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করাই হচ্ছে একজন প্রকৃত মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।' জীবনের প্রতিটি প্রতিকূল মুহূর্তে যারা নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশাকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন, তারা কেবল ইহকালেই মানসিক শান্তি পান না বরং পরকালেও তাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম পুরস্কার। ধৈর্য কেবল একটি গুণ নয়, এটি মানুষের আত্মিক শক্তিকে বলীয়ান করার এক মহান হাতিয়ার।ইসলামিক চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামদের মতে, বর্তমানের অস্থির ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে মানুষের মাঝে ধৈর্য ও সহনশীলতার অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। সামান্য কারণেই মানুষ চরম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, যা সমাজে অশান্তি ও কলহ বাড়িয়ে তুলছে।পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, 'হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।' এর অর্থ হলো, যেকোনো সংকট বা বিপর্যয়ের মুখে নিজেকে হারিয়ে না ফেলে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে বিনয়ী হওয়া এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্যের পরিচয় দেওয়াই ইসলামের শিক্ষা।রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ছিল ধৈর্যের এক উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। মক্কার কাফেরদের চরম অত্যাচার, ব্যক্তিগত জীবনের নানা শোক ও দুঃখের মাঝেও তিনি কখনো ধৈর্যচ্যুত হননি। সাহাবিদেরও তিনি সবসময় যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে 'আলো বা জ্যোতি' হিসেবে অবিহিত করেছেন। নবীজির শিক্ষা অনুযায়ী, বিপদে আপদে অস্থির না হয়ে আল্লাহর ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকাই হলো প্রকৃত সবর বা ধৈর্য। যারা এই গুণটি নিজের জীবনে ধারণ করতে পারেন, মহান আল্লাহ নিজে তাদের অভিভাবক হয়ে যান এবং তাদের চলার পথকে সুগম করে দেন।পার্থিব জীবনে নানা পরীক্ষা আসবেই, তবে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি হলো সবর। সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে শান্তি বজায় রাখতে এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই।উলামায়ে কেরামগণ আহ্বান জানিয়েছেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাগ ও তাড়াহুড়ো পরিহার করে আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে। আল্লাহ তাআলার সেই মহিমান্বিত সান্নিধ্য ও ভালোবাসা লাভ করতে হলে সবরের গুণ অর্জনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন মহান আল্লাহ তাআলা