দোকানকর্মীর গায়ে হালিম ছুড়লেন জাকসু নেতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা এলাকায় খাবারের দোকানে তুচ্ছ ঘটনার জেরে এক দোকানকর্মীর গায়ে হালিম ছুড়ে মারা এবং অন্য এক কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হুসনে মুবারকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ( রাত ২টার দিকে ঘটা এই অমানবিক ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকায় ‘হাবীব ভাইয়ের দোকানে’ (বামের দোকান নামে পরিচিত) হুসনে মুবারকসহ দুইজন খেতে আসেন। খাওয়ার সময় হালিমে একটি মাছি পাওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জাকসু নেতা মুবারক। তিনি দোকানের কর্মচারী বিল্লালের থুতনি চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক সেই মাছিযুক্ত হালিম খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি হালিমের বাটিটি ছুড়ে মারেন দোকানমালিকের ছেলে সাহাবুদ্দিনের দিকে।ভুক্তভোগী সাহাবুদ্দিন বলেন, হালিমে মাছি পেয়ে সে আমার মামার (বিল্লাল) মুখ ধরে খাইয়ে দিতে নিছিল। মামা সরে আসলে সে হালিমের বাটি এনে আমার দিকে ছুড়ে মারে। আমার গায়েও হালিম পড়ে।ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হুসনে মুবারক বিষয়টি আংশিক অস্বীকার করে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে খাবারে মাছি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ বাটিটি ছুড়ে মারি। তবে আমি কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত করিনি। খাবারের মান নিশ্চিত করতে কোথাও সমস্যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।খাবারে সমস্যা থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন ছাত্রপ্রতিনিধি কেন নিজের হাতে আইন তুলে নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই আচরণকে ‘ছাত্রসুলভ নয়’ বরং ‘মাস্তানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইযান আহমেদ অর্ক এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোবারক যে কাজটি করেছেন তা মোটেই ছাত্রসুলভ নয়। জাহাঙ্গীরনগরে আমরা সব পেশার মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকি। তার এই আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও সহাবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।