'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাই ছিলেন স্বৈরাচারের সবচেয়ে বড়ো সহায়ক'
'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাই ছিলেন স্বৈরাচারের সবচেয়ে বড়ো সহায়ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্যানেল তৎকালীন স্বৈরাচারের প্রত্যেকটি দুষ্কর্মকে বৈধতা দিয়েছে। যে শিক্ষা ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলতে শেখায় না, তা আসলে সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি মস্ত বড়ো প্যারাডাইম শিফটের বা আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।'রোববার (২ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গগণ হরকরা গ্যালারিতে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীন ফোরাম আয়োজিত ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক মুক্তির একমাত্র পথ হলো সুশিক্ষা, এর কোনো বিকল্প নেই। জনগোষ্ঠী সুশিক্ষিত হলে দেশে আর কখনোই স্বৈরাচার বাসা বাঁধতে পারবে না। বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরশাসনের একটা বড় কারণ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে কোনো স্তরেই সুশিক্ষা ছিল না।ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন অনন্য, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমরা সবাই দেখিনি, কিন্তু ২০২৪-এর বিপ্লব আমাদের নিজেদের জীবনের সরাসরি অভিজ্ঞতা।তিনি আরও বলেন, এ দেশের জুলাই যোদ্ধারা আরও অন্তত ৫০ বছর বেঁচে থাকবেন, তাই এই ইতিহাসকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। আমাদের সম্মিলিত স্মৃতি বা কালেক্টিভ মেমোরির অংশ হিসেবে এই জুলাইকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশের জন্য কাজ করার সময় তরুণ ও ছাত্র সমাজকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আমরা সবসময় সেই রক্তদান ও আত্মত্যাগের কথা মনে রাখি। এখানে কোনো ব্যক্তিগত অহংকার বা ‘আমি’র স্থান নেই, বরং ‘আমরা’র ভাবনা বাড়াতে হবে। এই আন্দোলনের আসল হিরোরা হলেন সেই লাখ লাখ ‘আনসাং হিরোজ’, যারা কোনো প্রচার ছাড়াই দেশের ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ঘরে ফিরে গেছেন। নেতৃস্থানীয়দের কখনোই তাদের ভুলে যাওয়া চলবে না।সেমিনারে ইবি গ্রীন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।এ সময় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সিনা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আলিনূর রহমান, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নছির উদ্দিন মিঝি, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।