‘গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না’- নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না। বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে এর সুফল দেশের সব নাগরিক ভোগ করবেন।”তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম, এখনো সেই আদর্শ ধারণ করি। আন্দোলনের শুরু থেকেই এটি ছিল অসাম্প্রদায়িক। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছেন। গণঅভ্যুত্থানে অন্তত নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ শহীদ হয়েছেন।”আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। নির্বাচনের আগে তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করত যে, তারাই একমাত্র অসাম্প্রদায়িক শক্তি। আমাদের মতে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত। কোনো একটি দলের সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্ক গড়ে উঠলে সেই দলের সব কর্মকাণ্ডের দায়ও তাদের ওপর বর্তাতে পারে।”তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দিয়েছিল। আমরা চাই না এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক। তবে সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ যে একসঙ্গে দাঁড়াতে পারে, জুলাই আন্দোলনে তার প্রমাণ মিলেছে। এরপরও যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গুম-খুন নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলসহ অতীতের সব হামলারও বিচার হওয়া প্রয়োজন।”সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “সবার অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং স্বাধীন বিচার বিভাগই সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে পারে।”দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়নের পুরোনো সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসতে দেখা যাচ্ছে। এ সময় জাতীয় ঐক্য আরও সুসংহত হওয়া দরকার ছিল। সরকার যদি সংস্কার, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তরিক হতো, তাহলে আমরা সহযোগিতা করতে পারতাম। এখনো দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।”এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বৌদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরি ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।