জনগণের ব্রীজ কেড়ে নিলো বালুবাহী জাহাজ
বালুবাহী জাহাজের (বলগেট) ধাক্কায় ঝালকাঠির রাজাপুরে আয়রন ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সড়ক যোগাযোগ। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জোয়ার-ভাটার প্রবল স্রোতের মধ্যে ছোট ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এর জন্য জনপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৫ টাকা। অথচ ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি সংস্কারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজাপুরসহ পার্শ্ববর্তী কাঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকায় খাল পার হতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।[TECHTARANGA-POST:7140]গত রোববার দুপুরে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মীরেরহাট থেকে আরুয়া-সোনারগাঁও সড়কের সংযোগ সড়কের ঝালোবাড়ি খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটিতে বালুবাহী একটি জাহাজ ধাক্কা দেয়; এতে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। পরে জাহাজটি উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হলেও ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় এর উভয় প্রান্ত দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্রিজটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুবাহী জাহাজ চলাচলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির কারণেই বারবার এমন ঘটনা ঘটছে।জাহাজটির মালিক উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের সোনারগাঁও এলাকার আব্দুল গনি সিকদারের ছেলে বাদশা সিকদারের মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে এড়িয়ে যান।এদিকে ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি বালুবাহী জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নৌপথে নজরদারি বাড়ানোরও দাবি তাদের।ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, 'জাহাজের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, 'স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘব করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'