সাংবাদিককে হুমকি ও সংবাদ সরানোর চাপের অভিযোগ, নিন্দা ছাত্রশক্তির
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) সদস্য ও ঢাকা স্ট্রিমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আব্দুল মুত্তালী নাবিলকে সংবাদ প্রকাশের জেরে হুমকি, সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং ‘ট্যাগিং’ করার অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তূর্য এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা ক্ষমতাধর কোনো পক্ষ সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অধিকার রাখে না। কোনো সংবাদে ভুল বা অসত্য তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ জানাতে পারেন, বক্তব্য দিতে পারেন কিংবা প্রচলিত বিধি ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারেন। তবে সংবাদ পছন্দ না হওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া, সংবাদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা কিংবা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।জাতীয় ছাত্রশক্তির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অসঙ্গতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতার পরিচয় সাংবাদিকতার স্বাধীনতার চেয়ে বড় হতে পারে না।অভিযোগটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকেরা যাতে শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তির ভয়ভীতি ও চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সেখানে পুরোনো নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি ফিরতে দেওয়া উচিত নয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হলে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং তদন্তের ফল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।