জাবিতে মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও অপরিকল্পিত ফুটপাথ তৈরি বন্ধের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করেছে একদল শিক্ষার্থী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’ এর ব্যানারে এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, “আমরা দীর্ঘ সাত বছর যাবত বলে আসছি যে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেন। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের পরিকল্পনা আমরা হতে দিতে চাই না। উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন অব্দি প্রায় তিন হাজারের মতো গাছ কাটা হয়েছে, অসংখ্য লেক-জলাধার ভরাট করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানের কাজ যখন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হওয়া সম্ভব, এর মধ্যে আমরা কোনো অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হতে দিতে চাই না।”তিনি আরও বলেন, “আমরা উন্নয়ন বা ফুটপাতবিরোধী নই। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা ছিলাম, আছি, থাকব। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যানের মধ্য দিয়ে সেটা করতে হবে। যখন আপনি রাস্তা প্রশস্ত করে দুই পাশে উঁচু ফুটপাত তৈরি করবেন, তখন জল পাস হবে কীভাবে? একটা সেন্ট্রাল স্যুয়ারেজ সিস্টেম ছাড়া ড্রেনেজ সিস্টেম বা ফুটপাতের কাজ হতে পারে না।”ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণ করলে কী হয়, তা নতুন কলাভবনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ক্লাসের সময় নতুন কলাভবনের সামনের রাস্তা বন্ধ রাখতে হয়, কারণ এর কোনো পরিকল্পনা নেই। টিএসসির সামনের পুকুর ভরাট করায় বর্ষাকালে মুক্তমঞ্চে পানি জমে। এখানকার সব প্রাকৃতিক উপাদান একটার সঙ্গে আরেকটা কানেক্টেড।”তিনি বলেন, “আফসানা করিম রাচি কাঠামোগত হত্যার শিকার হওয়ার পর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে প্রশাসন কাজ শুরু করল না। কিন্তু যখন ফুটপাত বা সাইকেল লেন নির্মাণের কথা হচ্ছে, তখন রাচির নামে রাজনীতি করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ফুটপাত নির্মাণ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার এড়ানোর জন্য যদি প্রয়োজন পড়ে, অবশ্যই ফুটপাত করতে হবে কিন্তু এখানকার প্রত্যেকটা রাস্তা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে সেটা করতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান ব্যতিরেকে কোনো কাজ করা যাবে না।”এছাড়াও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, “আমরা চাই জাহাঙ্গীরনগরে ফুটপাত হোক, কিন্তু এভাবে জনগণের অর্থ নষ্ট করে কেন? মাস্টারপ্ল্যান আসার যখন বেশি সময় বাকি নেই, তখন কেন তড়িঘড়ি করে আগের অর্থগুলো খরচ করার জন্য কিছু মানুষ নেমেছে? পরবর্তীতে যদি এটা মাস্টারপ্ল্যান মাফিক সঠিক না দেখা যায়, তখন সেটার জবাবদিহি কি তারা দেবে? মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে আমরা কোনো নির্মাণকাজ হতে দিতে চাই না।”