যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দুই পক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো থেকে অনেক দূরে রয়েছে।শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে গালিবাফ বলেন, “আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা থেকে অনেক দূরে আছি।” এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর ৪০ দিন পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে ইসলামাবাদে প্রথম দফা বৈঠকে বসে। তবে সেই বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।আগামী ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় বসাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও ইরান এখনো সময়সূচি নিয়ে চূড়ান্ত কিছু জানায়নি।গালিবাফ বলেন, “আলোচনায় আমরা অগ্রগতি অর্জন করেছি, কিন্তু এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে এবং কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া বাকি।” তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের অনাস্থা এখনো কাটেনি এবং যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে।এদিকে ইসরায়েলের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় দেশটির বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।অন্যদিকে সেন্টকম ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করেছে। এ অভিযানে ১২টির বেশি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট ২৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার বন্ধ করে দেয়।বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই।