শুটিং সেটে জ্ঞান করণ জোহর
বলিউড ইতিহাসের অন্যতম কালজয়ী সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ (K3G)। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির প্রতিটি গান আজও শিহরণ জাগায় দর্শক হৃদয়ে। বিশেষ করে ‘বোলে চুড়িয়াঁ’ গানটি ছাড়া আজও ভারতীয় বিয়েবাড়ি অসম্পূর্ণ। তবে এই ঝকঝকে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে ছিল নির্মাতা ও কলাকুশলীদের চরম ত্যাগ এবং যন্ত্রণার গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অজানা অধ্যায় সামনে এনেছেন ছবির তৎকালীন সহকারী পরিচালক নিখিল আদভানি।নিখিল আদভানি জানান, ‘বোলে চুড়িয়াঁ’ গানটিকে রাজকীয় রূপ দিতে কোনো কমতি রাখেননি পরিচালক করণ জোহর। বিশাল সেট, চোখধাঁধানো ঝাড়বাতি, ২০০ জন পেশাদার নৃত্যশিল্পী এবং ৩০০ জন জুনিয়র আর্টিস্ট—সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলানোর প্রচণ্ড মানসিক চাপে শুটিং চলাকালীন হঠাৎ করেই সেটে জ্ঞান হারান করণ জোহর। যা দেখে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো ইউনিটে।পর্দায় ‘বোলে চুড়িয়াঁ’ গানে কাজলকে প্রাণোচ্ছল দেখালেও বাস্তব ছিল অত্যন্ত করুণ। নিখিল জানান, শুটিং চলাকালীন কাজল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কাজলের গর্ভপাত (Miscarriage) হয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক যন্ত্রণা বুকে চেপেও হাসিমুখে ভারী লেহেঙ্গা পরে নাচের কঠিন কোরিওগ্রাফি শেষ করেছিলেন তিনি। কাজলের এই অদম্য পেশাদারিত্বই পরবর্তীতে তাকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার এনে দিয়েছিল।ছবির জাঁকজমক এতটাই বেশি ছিল যে, বাজেট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। প্রযোজক যশ জোহর যখন বাজেট জানতে চান, নিখিল ৩ কোটি টাকার একটি প্রাথমিক হিসাব দিয়েছিলেন। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের কারণে খরচ হু হু করে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে হতাশ হয়ে বাজেটের কাগজটিই ছিঁড়ে ফেলেছিলেন যশ জোহর। তবে ছবির গুণগত মানের প্রশ্নে তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো আপস করেননি।সেই সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১৯.২৯ কোটি রুপি আয় করেছিল ছবিটি। শাহরুখ খানের ছোটবেলার চরিত্রে (রাহুল) পর্দায় দেখা গিয়েছিল তার বড় ছেলে আরিয়ান খানকে।কৌতুকাভিনেতা জনি লিভার ও তার ছেলে জেসি লিভারকে প্রথমবারের মতো একসাথে পর্দায় দেখা গিয়েছিল এই সিনেমার মাধ্যমে।অমিতভ বচ্চন, শাহরুখ খান, হৃতিক রোশন ও করিনা কাপুর অভিনীত এই ছবিটি আজও এক আবেগের নাম। তবে নিখিল আদভানির এই নতুন তথ্য জানান দিচ্ছে, একটি কালজয়ী সৃষ্টির পেছনে কতটা শ্রম আর চোখের জল লুকিয়ে থাকে।