'সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ রুখতে নতুন বয়ান তৈরির তাগিদ সংস্কৃতিজনদের
শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চেপে বসা ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের’ অবসান ঘটিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটে নতুন ও শক্তিশালী বিকল্প বয়ান তৈরির ডাক দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক ও নাট্যকর্মীরা।শুক্রবার (১৭ই জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পরিবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সেল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা এ আহ্বান জানান।‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘অবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা’ শীর্ষক এই আলোচনা ও কবিতাপাঠের আসরে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের দিনগুলোর স্মৃতি এবং বর্তমানের সাংস্কৃতিক করণীয় নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।অনুষ্ঠানে সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিনগুলোর অজানা কিছু ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পর যখন ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে, তখন আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসিব আল ইসলাম ও রিফাত রশিদ চানখাঁরপুলের ‘স্বপ্ন বিল্ডিং’-এ বসে পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছিলেন।লুৎফর রহমান উল্লেখ করেন, সে সময় আন্দোলনের পোস্টার ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য আবু বাকের মজুমদার ও নাহিদ ইসলাম তার কাছ থেকে প্রাথমিক তহবিল হিসেবে কিছু টাকা নিয়েছিলেন। একই সাথে তিনি দেশ কাঁপানো স্লোগান "লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারো বাপের না" এবং পরবর্তীতে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে রচিত "আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ" স্লোগান দুটির সৃষ্টির নেপথ্য ইতিহাস তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের মূল বক্তা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও কোষাধ্যক্ষ এস এম সাইফ মোস্তাফিজ বিগত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী সরকার কেবল প্রশাসনিকভাবে নয়, বরং কোমলমতি শিশুদের জন্য ‘মুজিব’ কমিকস বানিয়ে তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল এবং ‘জয় বাংলা কনসার্ট’-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাসিস্ট কাঠামো তৈরি করেছিল।আসরে উপস্থিত সংস্কৃতিজনেরা একমত পোষণ করেন যে, কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনই চূড়ান্ত মুক্তি নয়, বরং দেশের মননশীলতার দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর জরুরি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধরে রাখতে তৃণমূল থেকে একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারবিরোধী সর্বজনীন সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তারা জোর দেন।এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য কবি সাইয়েদ জামিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ ও কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি জাকির আবু জাফর, সালাহ উদ্দিন শুভ্র, রাসেল রায়হান, সাম্য শাহ, সানাউল্লাহ সাগর, মামুন সারোয়ার, গাজী রফিক, আসমা সুলতানা শাপলা, আবিদ আজম, শিবলী আহমেদ, ইমরান মাহফুজ ও জিয়া হকসহ আরও অনেকে।