খাল খননের কাজ না করেই ৩০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় এলজিইডির একটি খাল সংস্কার প্রকল্পে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই প্রায় ৩০ লাখ টাকার চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নথিতে কাজ শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও সরেজমিনে খালের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিনের পলি ও ময়লা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও আবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণেরও চিহ্ন নেই।এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় পুকুর ও খাল উন্নয়ন (আইসিপি) প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ‘পি টু ডি’ ও ‘পি টু ডি ১/১’ খাল সংস্কার, বেড ব্লক ও টিবিএম নির্মাণের কাজ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আম্মার ট্রেডার্স। এ কাজে চূড়ান্ত বিল হিসেবে ৩০ লাখ ৩ হাজার ৫৩৬ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে কিছু কাজ করে প্রথম রানিং বিল নেয়। পরে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন যোগদানের পর অসম্পূর্ণ কাজের চূড়ান্ত বিল অনুমোদন করা হয়।গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, আবদুল লতিফ হাজীবাড়ি থেকে মিরশাহ আলম চেয়ারম্যানবাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় দৃশ্যমান কোনো খননকাজ হয়নি। চেয়ারম্যানবাড়ির উত্তর দিক থেকে সুলতান ভূঁইয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কেবল ভাসমান ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান; খালের তলদেশ খননের কাজ হয়নি।এ ছাড়া চৌধুরীবাড়ি থেকে কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার অংশের দুই প্রান্তে সামান্য পরিষ্কার করা হলেও মাঝের অংশের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী খালের স্থায়িত্ব, ভাঙনরোধ ও নির্ধারিত গভীরতা নিশ্চিত করতে বেড ব্লক ও টিবিএম নির্মাণের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে ৯টি বেড ব্লক ও ১৮টি টিবিএম থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে সেগুলোর কোনোটি পাওয়া যায়নি। এমনকি খননের গভীরতা পরিমাপের জন্য স্থায়ী চিহ্ন বা পেগও দেখা যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক বলেন, খাল থেকে সামান্য মাটি সরানো হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা আগের মতোই রয়েছে। প্রকল্পের পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি শুনেছেন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা নথি না দেখে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, চূড়ান্ত বিল প্রস্তুত করা হলেও কিছু টাকা আটকে রাখা হয়েছে। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও কমিশন দাবি, অসম্পূর্ণ ভবনের বিল পরিশোধ এবং অসদাচরণের মতো অভিযোগ ওঠার কথা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এসব অভিযোগের পর তাকে এক দফায় ফেনীর পরশুরামে বদলি করা হলেও পরে চন্দ্রগঞ্জ হয়ে আবার সদর উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।