উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে অফিস সহকারীর স্ত্রীর মিথ্যা হয়রানি
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজাপুর যুব উন্নয়ন অফিসের অফিস সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী রানী বেগম এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনকে ইতিমধ্যেই বাগেরহাটের শরণখোলায় বদলি করা হয়েছে।গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসে (যেখানে কামরুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন) এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী রানী বেগম হাজিরা খাতায় পূর্বের দিনের অগ্রিম স্বাক্ষর দিতে চান। এতে কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বাধা দিলে রানী বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে, কর্মকর্তা তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে তার মুখে আঘাত করেছেন।এ বিষয়ে মো. কামরুল ইসলাম বলেন, "আমি দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। ৯ এপ্রিল বিকেলে তারা অফিসে এসে নিয়মের বাইরে হাজিরা খাতায় সই করতে চাইলে আমি নিষেধ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে, যা আমি কল্পনাও করিনি।"তিনি আরও জানান, আনোয়ার হোসেনের এই ধরনের আচরণ নতুন নয়। এর আগে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে কর্মরত থাকাকালীন কর্মকর্তার সাথে মারধর ও অসদাচরণের দায়ে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন। মূলত কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করাই এই দম্পতির পুরনো অভ্যাস।মো. কামরুল ইসলাম এলাকায় একজন অত্যন্ত সজ্জন ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে কাঠালিয়া অফিসার্স ক্লাবের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, তারাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, বিআরডিবির চেয়ারম্যান এবং কাঠালিয়া ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে অফিস সহকারী মো. আনোয়ার হোসেনকে তাৎক্ষণিক এক আদেশে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। এই মিথ্যা হয়রানির চেষ্টায় স্থানীয় সুধীমহল ও কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।